সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

বেথেলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ছাপিয়ে আবার ফাইনালে ভারত

সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৪:১৭ অপরাহ্ন খেলা
সোনার দেশ ডেস্ক ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৪:১৭ অপরাহ্ন
বেথেলের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ছাপিয়ে আবার ফাইনালে ভারত
শিরোপা ধরে রাখতে ভারতের চাই আর একটি জয়। ছবি: রয়টার্স

ম্যাচের কেবল তৃতীয় ওভার সেটি। সেই ওভারের একটি ঘটনাই বড় পার্থক্য গড়ে দিল গোটা ম্যাচে। খুব সহজ একটি ক্যাচ ফেললেন হ্যারি ব্রুক। শুরুতে জীবন পেয়ে প্রায় ৯০ ছোঁয়া আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন সাঞ্জু স্যামসন। ভারতের রান পাহাড়ের জবাবে অনেকটা সময় পর্যন্ত ইংল্যান্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন জ্যাকব বেথেল। ঝড়ো সেঞ্চুরি করেও অবশ্য দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারলেন না তিনি। রান উৎসবের ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ভারত।

৪৯৯ রান আর ৩৪ ছক্কার দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভারতের জয় ৭ রানে।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে ভারত করে ২৫৩ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউটে সর্বোচ্চ স্কোর এটি।

এই মাঠেই ২০১৬ আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার ২২৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ফাইনালে উঠতে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়ার এক দশক আগের সেই রেকর্ড এবার নতুন করে লিখতে হতো ইংলিশদের। সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত তারা যেতে পারে ২৪৬ পর্যন্ত।

শেষ তিন ওভারে পাঁচ উইকেট হাতে নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪৫ রান। সম্ভাবনা জিইয়ে ছিল তাদের ভালোভাবেই। তবে অষ্টাদশ ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে জাসপ্রিত বুমরাহ দেন কেবল ৬ রান।

পরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার প্রথম বলে ছক্কা মেরে বেথেল সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেও, ৯ রানের বেশি আসেনি। শেষ ওভারে ৩০ রানের প্রয়োজনে শিভাম দুবের প্রথম বলে রান আউটে বিদায় নেন বেথেল। পরে আর্চারের তিন ছক্কায় পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে ইংল্যান্ড।

ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে আট চার ও সাত ছক্কায় ৪৮ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেও বেথেলের সঙ্গী হতাশা।

আরেকবার ভারতের জয়ের নায়ক স্যামসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে রান তাড়ায় অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে সেমি-ফাইনালে তোলেন তিনি। এবার আট চার ও সাত ছক্কায় ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে আবারও ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ এই কিপার-ব্যাটসম্যান।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক ব্রুক শুরুতে ক্যাচটা নিতে পারলে স্যামসনের এই ইনিংস শেষ হতে যেত ১৫ রানেই!

পরে এই ব্রুকেরই দুর্দান্ত একটি ক্যাচ নেন আকসার প্যাটেল। আরও একটি নজরকাড়া ক্যাচে তার ছিল উল্লেখযোগ্য অবদান, এসবই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ম্যাচে।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে বোলিং নেন ব্রুক। ভারত অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ জানান, আগে ব্যাটিংই চেয়েছিলেন তিনি। শুরুটা যদিও তাদের ভালো ছিল না। দ্বিতীয় ওভারে স্পিনার উইল জ্যাকসকে দুটি চার মেরেই বিদায় নেন আভিশেক শার্মা।

প্রথম ওভারে আর্চারকে পরপর চার ও ছক্কা মেরে শুরু করেন স্যামসন। আর্চারের পরের ওভারেই মিড-অনে স্যামসনের ওই ক্যাচ ফেলেন ব্রুক।

জীবন পেয়ে এক বল পরই আর্চারকে ৮৮ মিটার ছক্কায় ওড়ান স্যামসন। ইশান কিষানের সঙ্গে জমে ওঠে তার জুটি।

পাওয়ার প্লেতে ভারত করে ১ উইকেটে ৬৭ রান। শতরান পূর্ণ হয় নবম ওভারে। স্যামসন ফিফটি করেন স্যামসন।

কিষানকে ফিরিয়ে ৪৫ বলে ৯৭ রানের বিস্ফোরক জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার আদিল রাশিদ। চারটি চার ও দুটি ছক্কায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করেন ১৮ বলে ৩৯ রান।

বিশ্বকাপের নকআউটে ভারতের সর্বোচ্চ জুটি এটি। ২০০৭ সালে উদ্বোধনী আসরে ডারবানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইউভরাজ সিং ও রবিন উথাপ্পার ৮৪ রানের জুটি ছিল আগের রেকর্ড।

কিষান ফিরলেও ভারতের ব্যাটিং ঝড় থামেনি। স্যামসন ও দুবের জুটিতে তাদের স্কোর দেড়শ পেরিয়ে যায় ১৩ ওভারেই। ওই ওভারে আর্চারকে পরপর দুটি ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগান স্যামসন। কিন্তু পরের ওভারে জ্যাকসের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল উড়িয়ে মেরে সহজ ক্যাচ দেন তিনি।

পাঁচে নেমে অল্পে বিদায় নেন সুরিয়াকুমার। প্রমোশন পেয়ে চারে নামা দুবে চারটি ছক্কা ও একটি চারে করেন ২৫ বলে ৪৩ রান। পান্ডিয়ার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে আসরে তৃতীয়বার রান আউট হন তিনি।

বিশ্বকাপের এক আসরে তিনবার রান আউট হওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল এতদিন শুধু ২০০৭ সালে মাহেন্দ্র সিং ধোনির।

ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার সাতে নামা তিলাক ভার্মা ১৯তম তিনটি ছক্কা মারেন আর্চারকে। ৭ বলে ২১ রান করেন তিনি।

শেষ ওভারে পান্ডিয়ার দুটি ছক্কায় আড়াইশ ছাড়ায় ভারতের রান। তিন চার ও দুই ছক্কায় এই অলরাউন্ডার করেন ১২ বলে ২৭ রান।

রান তাড়ায় প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন ফিল সল্ট। ওই ওভারে দুটি চার আসে জস বাটলারের ব্যাটে। ভীষণ বাজে সময় কাটানো ব্যাটসম্যান বাউন্ডারির দেখা পেলেন পাঁচ ম্যাচ পর!

পরের ওভারে আক্রমণে এসেই সল্টকে বিদায় করেন পান্ডিয়া। বুমরাহও প্রথম বলে উইকেটের দেখা পান পঞ্চম ওভারে বোলিং এসে। ব্রুককে ফেরাতে তার নিজের অবদান যতটা, ঠিক ততটাই ফিল্ডার আকসারের।

স্লোয়ার ডেলিভারি ঠিকমতো খেলতে পারেননি ব্রুক। পয়েন্ট থেকে অনেকটা পেছনে দৌড়ে ডাইভ দিয়ে বল মুঠোয় জমান আকসার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বুমরাহর ৫০০তম উইকেট এটি।

ইংল্যান্ডের রানের গতি যদিও কমেনি। উইকেটে গিয়ে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মারেন বেথেল। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তিনি টানা তিনটি ছক্কা মারেন স্পিনার ভারুন চক্রবর্তিকে।

ওই ওভারেই বাটলার বিদায় নেন ১৭ বলে ২৫ রান করে। ৬ ওভারে ইংল্যান্ড করে ৩ উইকেটে ৬৮।

আকসারকে পরপর দুই ছক্কা মেরে পরের বলে আউট হয়ে যান টম ব্যান্টন। তখন ৯৫ রানে নেই ৫ উইকেট। ইংল্যান্ড বেশ চাপে।

সেখান থেকেই ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটিতে আশা জাগিয়ে তোলেন বেথেল ও জ্যাকস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ২৫৩/৭ (স্যামসন ৮৯, আভিশেক ৯, ইশান ৩৯, দুবে ৪৩, সুরিয়াকুমার ১১, পান্ডিয়া ২৭, তিলাক ২১, আকসার ২*, ভারুন ০*; আর্চার ৪-০-৬১-১, জ্যাকস ৪-০-৪০-২, ওভারটন ৩-০-৩৬-০, কারান ৪-০-৫৩-০, রাশিদ ৪-০-৪১-২, ডসন ১-০-১৯-০)

ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৪৬/৭ (সল্ট ৫, বাটলার ২৫, ব্রুক ৭, বেথেল ১০৫, ব্যান্টন ১৭, জ্যাকস ৩৫, কারান ১৮, ওভারটন ২*, আর্চার ১৯*; আর্শদিপ ৪-০-৫১-১, পান্ডিয়া ৪-০-৩৮-২, বুমরাহ ৪-০-৩৩-১, ভারুন ৪-০-৬৪-১, আকসার ৩-০-৩৫-১, দুবে ১-০-২২-০)

ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাঞ্জু স্যামসন

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ