সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

বিশাল শিকার গিলেও হজম করে ফেলে, রাক্ষুসে অজগরের রক্তেই দূর হতে পারে স্থূলত্ব!

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ন
বিশাল শিকার গিলেও হজম করে ফেলে, রাক্ষুসে অজগরের রক্তেই দূর হতে পারে স্থূলত্ব!

মাসের পর মাস না খেয়ে থাকে। নিজের আকার ও ওজনের চেয়েও বড় শিকার ধরে গিলে খায়। তা হজমও করে ফেলে। এর পরেও মেদের লেশমাত্র লাগে না তাদের গায়ে। এরা পৃথিবীর দীর্ঘতম সাপেদের একটি। এরা বার্মিজ় পাইথন। এদের রক্তেই স্থূলত্ব দূর করার উপাদান খুঁজে পেলেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা।


যৌবন ধরে রাখা ও স্থূলত্ব দূর করা— এই হল এখনকার চাহিদা। আর এতেই গা ভাসিয়েছে গোটা বিশ্ব। ওজন যে হারে বাড়ছে, তাতে জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা রোগ, যেমন ডায়াবিটিস, ওবেসিটি, লিভারের অসুখ, পিসিওএস ইত্যাদি বেড়ে চলেছে। বড়রা তো বটেই, ছোটরাও এখন স্থূলত্বের শিকার। তাই ওজন কী ভাবে কমানো যায়, তা নিয়েই মাথাব্যথা বেশি। সে কারণে এত রকম ওজন কমানোর ওষুধ তৈরি হচ্ছে। সে সব ওষুধ নিয়ে মাতামাতিও চলছে। স্থূলত্ব দূর করার আরও অনেক পদ্ধতি নিয়ে গবেষণাও চলছে। এর মধ্যে নজর কেড়েছে একটি গবেষণা। আর তা নিয়েই খবর হয়েছে। সেটি হল— অজগরের রক্তে স্থূলত্ব দূর করার উপাদানের খোঁজ। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সেই উপাদানটি খুঁজে পেয়েছেন। ‘নেচার মেটাবলিজ়ম’ জার্নালে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।


হঠাৎ করে অজগর কেন? স্ট্যানফোর্ডের গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, বার্মিজ় পাইথনদের দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ২০ ফুট বা তারও বেশি হয়। ওজনও ততোধিক বেশি। আকারে-ওজনে বিশাল এমন রাক্ষুসে অজগরেরা লেজ়ের প্যাঁচে শিকার জড়িয়ে তার হাড়গোড় গুঁড়িয়ে ফেলে তাদের গিলে খায়। এরা যখন বিশাল আকারের শিকার গিলে ফেলে, তখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এদের হৃদ্পিণ্ড, লিভার এবং ফুসফুসের আকার বড় হয়ে যায় এবং বিপাকহার কয়েকশো গুণ বেড়ে যায় এবং মেটাবলিজ়ম বা বিপাক হার বেড়ে যায় কয়েক গুণ! বিজ্ঞানীদের দাবি, পাইথনের রক্তে এমন কিছু বিশেষ উপাদানের মিশ্রণ রয়েছে, যা দ্রুত মেদ ঝরাতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তার মধ্যে একটি হল ‘পিটিওএস’ (প্যারা-টাইরামাইন-ও-সালফেট)। গবেষক জোনাথন লং এই উপাদানটি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সেটি অজগরের অন্ত্রে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ভেঙে তৈরি হয়। এই উপাদানটি তৈরি করে অজগরের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাক্টেরিয়া।


অজগর যখন শিকার গিলে ফেলে, তখন এই ‘পিটিওএস’ উপাদানটির মাত্রা ১০০০ গুণ বেড়ে যায়। সেটি খাবার হজম করাতে শুরু করে, পাশাপাশি হার্ট ও লিভারও ভাল রাখে। এর আরও একটি কাজ হল, পেট দীর্ঘ সময় ভরিয়ে রাখা। মস্তিষ্কে এমন সঙ্কেত পাঠানো, যাতে খিদের বোধ অনেক কমে যায়। এক বার খাবার খাওয়ার পর, দীর্ঘ সময় না খেয়েও সুস্থ থাকা যায়।


অজগরের পেটে তৈরি হওয়া এই উপাদানটিকে আলাদা করে ইঁদুরদের শরীরে ঢুকিয়ে দেখেন গবেষকেরা। দেখা যায়, ২৮ দিনে ইঁদুরের ওজন তার স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ কমে গিয়েছে। এর থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝেছেন, অজগরদের যা খুশি খেয়ে হজম করার ক্ষমতা এই উপাদানটির জন্যই। আর সেটি যদি মানুষের কাজে লাগানো যায়, তা হলে খেয়েদেয়েও রোগা থাকা যাবে। প্রয়োজনের বেশি খেয়ে ফেললেও ক্যালোরি বাড়বে না। তবে এই খোঁজ এখনও গবেষণার স্তরেই আছে। অজগরের রক্তের উপাদান মানুষের রক্তে মিশলে কী হবে, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখেননি তাঁরা।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন