প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই উন্নয়নের স্বপ্নে প্রহর গুনছে সুবিধাবঞ্চিত বগুড়াবাসী
উত্তরের অর্থনৈতিক রাজধানী খ্যাত বগুড়া এখন যেন এক উৎসবের মহোৎসবে মেতেছে। ১৯ বছর পর পৈতৃক ভিটায় পা রাখছেন তারেক রহমান। আর তার এই সফরকে কেন্দ্র করে দশকের পর দশক ধরে বঞ্চিত বগুড়াবাসী উন্নয়নের স্বপ্নে প্রহর গুনছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তার ২০ এপ্রিল এই প্রথম সফরকে ঘিরে কেবল রাজনৈতিক উদ্দীপনা নয়, বরং জেলার শিক্ষা, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর সাত মাথার এই শহর।
পুরো শহরে এক মহাযজ্ঞের চিত্র। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। রোড ডিভাইডারগুলো ঘষে-মেজে নতুন রঙে রাঙানো হচ্ছে। সুন্দর করে ছাঁটা হয়েছে ডিভাইডারের গাছপালা।
বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষণে পৌর ভবনকে শেষ বারের মত রঙ তুলির আঁচড়ে অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের জন্য সার্কিট হাউসেও চলছে ধোয়া-মোছা আর নতুন রঙের কাজ। তোরণ, ব্যানার আর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় পুরো জেলা এখন বর্ণিল। অন্যদিকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানোর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন ও পুুলিশ বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের জন্য বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার স্থলের মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন। আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) এই মাঠেই প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী সরকারি সফরে ওই দিন তিনি বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশন-এর ফলক উন্মোচন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতি ভবন এবং ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন সহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বগুড়া জেলাটি বিএনপি’র ঘাঁটি তথা শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান। এ কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজ গেল ১৭ বছর দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি এ জেলায়। বিগত সময়ে বগুড়ার উন্নয়নের আশ্বাস আর ঘোষণা দিয়ে গত ১৭ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকে এ জেলার মানুষ উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর হয়ে এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে। এবার উন্নয়ন বঞ্চনা নয়, দীর্ঘ সময় উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াবাসী এবার উন্নয়নের দাবি তুলছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রাচীন নগরী এ বগুড়া জেলা। এ জেলায় সাত সংসদীয় আসন রয়েছে। কিন্তু বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। জেলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ, উন্নয়ন কাজ আনতে ব্যর্থ হয়েছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদের এমপিরা। যে বরাদ্দ এনেছেন নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। উন্নয়নের নামে বারংবার জেলায় মন্ত্রী-এমপিরা পরিদর্শন করলেও বাস্তবায়ন হয়নি একটিও। উন্নয়নের নামে শুধু লোভই দেখানো হয়েছে, বাস্তবায়ন করা হয়নি কিছুই। শুধুমাত্র বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি বলে প্রতিহিংসায় সব উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এজেলাকে।
স্থানীয়রা জানায়, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বগুড়ায় হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানাসহ যে উন্নয়ন হয়েছিল, সেটি উত্তরের মানুষের জন্য সুফল বয়ে এনেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও বিমানবন্দর স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিলেও সেগুলো থেমে যায় শেখ হাসিনার সরকারের কারণে।
প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার ছেলে হওয়ায় কাঙ্খিত উন্নয়ন নিয়ে সোচ্ছার রয়েছে বগুড়াবাসী। তাদের দাবি, জেলার উন্নয়নে বাণিজ্যিকভাবে বিমানবন্দর চালু করা, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগর স্থাপন, অতিদ্রুত বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, সবজি হিমাগার নির্মাণ, কমপক্ষে চারটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ করে ও চরগুলো আধুনিকায়ন করে ট্যুরিস্ট স্পট নির্মাণ, যমুনার পাশে সার কারখানা স্থাপন, জেলায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আরও আধুনিকায়ন, করতোয়া নদী সংস্কার, শহরের যানজট নিরসন ফ্লাইওভার নির্মাণ, নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কাঁচা সড়ক পাকাকরণ, প্রতিটি সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফিরিয়ে আনা, খেলাধুলার জন্য আধুনিক স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, শিশুকিশোরদের জন্য বিনোদন স্পট, সাংস্কৃতিক কাজের জন্য একাধিক মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে যমুনা নদী বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ, সুদের কারবার বন্ধ করা, মাদক, জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া মুখী করে গড়ে তোলা, বঞ্চিত হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট গড়া, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহজশর্তে সরকারি ঋণ দেয়াসহ বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন তারা।
সারাদেশের মধ্যে বগুড়া জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পড়াশোনার জন্য অনেক এগিয়ে। যা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেই প্রমাণিত হয়। সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলেও শুধু বগুড়ায় স্থাপিত হয়নি।
এ বিষয়ে জেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি ও প্রাবন্ধিক বজলুল করিম বাহার বলেন, বগুড়াকে পেছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জেলা বগুড়া। এ জেলা অনেক আগে শিক্ষার নগরীতে পরিণত হয়েছে। এরপরও এখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়নি। ২০০৫ সালে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের করার চেষ্টা করেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। কিন্তু পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। তবে আশার কথা হলো যে, এবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার। ‘এবার একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হবে।’
ক্রীড়া ক্ষেত্রে বগুড়ার অবদান রয়েছে অনেক। জাতীয় ক্রিকেট দলে বগুড়ার অনেক খেলোয়াড় রয়েছে যারা বগুড়া সন্তান। এরমধ্যে মুশফিকুর রহিম, শফিউল ইসলাম সুহাস, তৌহিদ হৃদয়, তানজিদ তামিম অন্যতম। যারা নিয়মিত খেলছেন। কিন্তু বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আন্তর্জাতিক মানের মাঠের মর্যাদা হারিয়েছে। আইসিসির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যা শুধু প্রতিহিংসার কারণে ঘটেছে।
বগুড়ার সাবেক ক্রিকেটার তানভীর আলম রিমন বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে শুধু ক্রীড়া নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে বগুড়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে বগুড়া থেকে জাতীয় পর্যায়ে কয়েকজন ক্রিকেটার দেশের সুনাম বয়ে আনছে। এজেলায় শুধু ক্রিকেটারই নয়, অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। অথচ বগুড়ায় কোন ফুটবল স্টেডিয়াম নেই। যে মাঠগুলোতে খেলার অনুশীলন চলে, সেগুলোও মানসম্মত নয়। তাই বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি করা খুব জরুরি। এছাড়া বিকেএসপির একটি শাখা বগুড়ায় খুলতে পারলে উত্তরাঞ্চলের ক্রীড়ায় বিশেষ অবদান রাখতে পারবে। তাই ক্রীড়া ক্ষেত্রে বগুড়ার উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই রাখবেন বলে দাবী করেন তিনি।
পরিবেশের উন্নয়নে বগুড়া শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া, ইছামতী, বাঙালি ও জেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা যমুনার নদীর নাব্যতা রক্ষা। বিশেষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান এই অঞ্চলের মানুষের। করতোয়া ও ইছামতী নদী খননের কথা বিগত সময়গুলোতে শোনানো হলেও আলোর মুখ দেখেনি। তবে এবার একনেকে করতোয়া নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী মো. সাহাবুদ্দিন সৈকত বলেন, করতোয়া নদী আমাদের শহরের প্রাণ। এই নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে হবে। দখল-দুষণ মুক্ত করে পানির প্রবাহ করাতে পারলেই করতোয়া তার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাবে।
সংস্কৃতিতে অন্যান্য জেলার চেয়ে বগুড়া অনেক এগিয়ে। বগুড়ায় নাটক, আবৃত্তি, নাচ, গান, কবিতা, প্রবন্ধ নিয়ে শতাধিক সংগঠন কাজ করছে। কিন্তু বগুড়ার সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য কোন মুক্ত মঞ্চ নেই। যেখানে অবাধে সংস্কৃতির চর্চা করা সম্ভব।
এই সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকার জানান, বগুড়ায় শতাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। অথচ বগুড়ায় এই সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য কোনো মুক্ত মঞ্চ নেই। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি, তিনি এই বগুড়ার সন্তান। তিনি অবশ্যই শহরে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য কয়েকটি মুক্ত মঞ্চের ব্যবস্থা করে দেবেন।
বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক বলেন, বগুড়ায় অনেক কবি, সাহিত্যিক ও লেখক রয়েছেন। যারা তাদের লেখনি দিয়ে সারদেশে সুনাম কুড়িয়েছেন। অথচ লেখকদের জন্য নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। যেখানে লেখকরা তাদের গবেষণা করবেন সাহিত্যে, প্রবন্ধে, কবিতায়। তাই বগুড়া একটি সাহিত্য পল্লী গড়ে তোলা অনেক প্রয়োজন।
বগুড়ার তৈরি পাটজাত পণ্য, হাতে তৈরি সুতি টুপি, রাইস ব্যান ওয়েল, হালকা প্রকৌশল কৃষিজাত পণ্যসহ বেশ কিছু পণ্য উৎপাদন হচ্ছে নিয়মিত। এসব পণ্যের বাজার রয়েছে দেশের বাহিরে। শুধু এশিয়া নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ও ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার কারণে বিদেশে রপ্তানি করতে বেগ পেতে হয়। কারণ বগুড়ায় কোনো আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নেই। যার ফলে বিদেশি ক্রেতারা বগুড়ায় আসতে পারে না। তাই অতিদ্রুত বিমানবন্দর চালু করার দাবী ব্যবসায়ীদের।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি সাইরুল ইসলাম বলেন, বগুড়ায় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা নিয়মিত তাদের পণ্য রপ্তানি করছে। কিন্তু বগুড়ায় কোনা বিমানবন্দর না থাকায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানালেও তারা যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে ঢাকায় আসলেও সড়ক পথে বগুড়ায় আসতে চান না। কারণ তারা সময়কে বেশি মূল্য দেয়। তাই অতিদ্রুত বগুড়ায় যে বিমানবন্দর রয়েছে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ করা হোক। একই সঙ্গে মালবাহী কার্গো বিমান যেন উঠানামা করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা অনেক জরুরি।
এ ছাড়াও বগুড়ার মহাস্থানসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়। এর মধ্যে আলু, ফুলকপি, মূলা, লাউ, সজনে ডাটা, বেগুন, করলা, পেঁপে, পাতাকপি, ঝিঙে, পটল, গাজর অন্যতম। যা সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। এমনকি এসব পণ্যের আলু ও ফুলকপি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি হয়।
বগুড়া বিসিক এলাকার গুঞ্জন গ্রুপের পরিচালক অনিন্দিতা হক গুঞ্জন বলেন, আমাদের বগুড়ার দ্বিতীয় বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু করতে হবে। কারণ এখানে যতগুলো প্লট আছে তা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। বিগত সরকারের সময় বিষয়টি ফাইল বন্দি হয়ে শুধু পড়ে থেকেছে। তাই এবার সময় এসেছে অতি দ্রুত বগুড়ায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু করার।
এদিকে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে বগুড়া-৬ সদর আসনে সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়াকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সব প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এসে সেসব ফাইল চাপা দিয়ে রাখতো।
এবার বগুড়ার মানুষ উন্নয়নের স্বাদ পেতে চায়। আগামীকাল ২০ এপ্রিল বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিনই বগুড়ার উন্নয়নে পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার মধ্যে দিয়ে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায় সেদিন আরও বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন। দীর্ঘ দিনের বগুড়াবাসীর উন্নয়ন বঞ্চনা এবার শেষ হবে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ দুই দশকের শেষভাগে প্রাপ্তির খাতায় বড় বড় অর্জন যোগ হওয়ার খুশিতে বগুড়ার প্রতিটি প্রান্তে এখন বিরাজ করছে ইদের আনন্দ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল এক রাজনৈতিক নেতার ঘরে ফেরা নয়, বরং বগুড়াবাসীর জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লবের শুভসূচনা হিসেবেই পরিগনিত হবে। এক কথায়, দীর্ঘদিনের অবহেলা আর বঞ্চনা ঘুচিয়ে এক উন্নয়নে বর্ণিল বগুড়া দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এ জেলাবাসী।