পত্নীতলায় বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নওগাঁর পত্নীতলায় বিবাদমান জমি সংক্রান্ত জেরে এক অসহায় কৃষকের বসতবাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অবশেষে এ বিষয়ে আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেন অসহায় ভুক্তভোগী নাজমুল (৩৯)। এমতাবস্থায়, বিবাদী ও সংঘবদ্ধ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে ওই অসহায় ভুক্তভোগীর উপর নানা রকম হুমকি দিয়ে আসছেন।
ইতোপূর্বে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে পত্নীতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সরকারি দলের রাজনৈতিক প্রভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের তেমন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেনি পুলিশ বলে দাবি করে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
নওগাঁ জেলা মোকাম বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট আদালতে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পত্নীতলা উপজেলার আকবরপুর ইউনিয়নের চান্দইল গ্রামের এমাদুলের পুত্র নাজমুল (৩৯) বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেন। যার মামলা নং- ১৬৪ মিস/২৬ পত্নীতলা, তারিখ-০৩/০৫/২০২৬ ইং। অভিযোগে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে বাদীর বসতবাড়ি পূর্ব শত্রুতার জেরে পাকা বাড়ি নির্মাণাধীন অবস্থায় প্রতিপক্ষ যোগসাজশে দুর্বৃত্ত কর্তৃক ভাঙচুর চালায়।
এতে অসহায় ভুক্তভোগীর প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। আরও জানা যায়, বাদী ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে অর্থ সংগ্রহ করা ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে নিজ বাড়ি ফিরেন। টিনের বেড়া ও চালের বাড়িটি পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। এসময় ওই বাড়ির টিনের বেড়া ও বিভিন্ন আসবাবপত্র উল্লেখিত তারিখ ও সময়ে বিবাদী পক্ষে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে মোটা আংকের চাঁদা দাবি জানায়। এতে বাদী রাজি না হলে- পরিকল্পিত ভাবে ওই বাড়িটিতে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে ভাঙচুর করেন।
এসময় ঘরে ব্যাগে রাখা রক্ষিত ৫ লক্ষ টাকা চুরি যায়। এমনকি, বাদীকে বিভিন্ন ভাবে দেখিয়ে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি বার্তা দেন বিবাদীগণ। বাদী নিরুপায় হয়ে এসময় ৯৯৯ কল করেও কোন প্রতিকার পাননি। এমনকি, থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও অফিসার ইনচার্জ কর্তৃক বাদীর অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকার জানান বলে দাবি করে ভুক্তভোগী পরিবার।
এ ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত বিবাদীরা হলেন- উপজেলার চান্দইল গ্রামের জিল্লুর রহমানের পুত্র আনারুল ইসলাম (৪০), মহসীন আলীর পুত্র বাবলু (৫০), সাদেক আলীর পুত্র সাদ্দাম (৩০), মহসীন আলীর পুত্র আবু সায়েম আলম (৩৮), অছিমুদ্দিনের পুত্র মোজাফফর রহমান (৬০), মৃত হবিবর রহমানের পুত্র রমজান আলী (৫৫), মৃত জবেদ আলীর পুত্র আনিছুর রহমান (৫৫), মৃত মালা বক্স পুত্র মাহবুবুর আলম (৫৬), জব্বার পুত্র শরিফুল ইসলাম (৪০) ও মৃত ডারকা পুত্র জিল্লুর রহমান (৭৫)।
সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অনুসন্ধানে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে বিবাদী পক্ষ থেকে সরকারি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করতে বাদীপক্ষকে চাপ দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু সুবিধা ভোগের পায়তারা করেন। এতে বাদীপক্ষ রাজি না হওয়ায় সরকারি দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ে একটি সুসংগঠিত দুর্বৃত্তের দল ভুক্তভোগী অসহায় কৃষক পরিবারের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক জানান, ‘উল্লেখিত ঘটনায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। তাই সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’