কার্প মিশ্র চাষে উৎপাদন বাড়াতে পবায় প্রদর্শনী স্থাপন, চাষীদের উপকরণ বিতরণ
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং চাষীদের আধুনিক পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় কার্প মিশ্র চাষ প্রদর্শনী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) এর আওতায় এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার ৪ জন মৎস্য চাষীর মাঝে প্রয়োজনীয় মৎস্য চাষের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন,“কার্প মিশ্র চাষ বর্তমান সময়ে একটি লাভজনক ও টেকসই মৎস্য উৎপাদন পদ্ধতি। এর মাধ্যমে একই পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ ধরনের প্রদর্শনী চাষীদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করবে।”
বিতরণকৃত উপকরণের মধ্যে ছিল একটি অ্যারেটর, ৩২ কেজি চুন, একটি রোটেনন এবং একটি সাইনবোর্ড। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব উপকরণ ব্যবহার করে চাষীরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুকুর ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন, যা মাছের বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ মোল্লাহ এবং ক্ষেত্র সহকারী মো. তাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা প্রত্যাশা করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ মোল্লাহ জানান, কার্প মিশ্র চাষ প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ চাষীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এতে করে চাষীরা সহজেই নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শিখতে পারেন এবং তা নিজেদের খামারে প্রয়োগ করতে সক্ষম হন। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও সহায়ক বলে মনে করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক চাষী এ ধরনের সহায়তার আওতায় আসবেন এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।