শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

এ কেমন শত্রুতা!

পত্নীতলা প্রতিনিধি ২২ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পত্নীতলা প্রতিনিধি ২২ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৩ অপরাহ্ন
এ কেমন শত্রুতা!



জমি সংক্রান্ত জের এবং হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকি অতঃপর পূর্ব শত্রুতার জেরে বাদী পক্ষের প্রায় ২২ বিঘা জমির ১৩ হাজার কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় অবশেষে অন্যতম আসামি তুহিন হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে আটকের পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকালে কোর্টের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে থানায় এজাহার করেন। এতে অসংখ্য নামসহ আরও একাধিক জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ। আটককৃত যুবকের বাড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শ্যামবাটি গ্রামে। 

এমন ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের গোপীনগর পানবোরাম গ্রামে। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, এই ক্ষতিগ্রস্ত কলাবাগান চিত্র পরিদর্শন করেন বিমানযোগে এসে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি টিম।

জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা কলাবাগানে ঢুকে এসব কলাগাছ কেটে ফেলে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কলা বাগান মালিক।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পানবোরাম এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। মানববন্ধনে স্থানীয় লোকজন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার কলাবাগানের গাছ কেটে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। এতে আমার প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, প্রায় ২২ বিঘা জমিতে তাঁর কলাবাগানে প্রায় ১৩ হাজার গাছ ছিল। প্রতিটি গাছেই কলা ধরেছিল এবং আরও প্রায় তিন মাসের মধ্যে সব কলা উত্তোলন করা সম্ভব হতো। এর আগেই রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে ফেলায় তাঁর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা কলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি  এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

স্থানীয়রা বলেন, একজন কৃষক দীর্ঘদিন পরিশ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করে কলাবাগান গড়ে তোলেন। ফলন আসার পরপরই এভাবে গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, ‘এ কেমন শত্রুতা! কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কলা বাগান পরিদর্শন করেন। এটি শুধুই ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষতি নই। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষতি।’

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, ‘ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তুহিন হোসেন নামে এক যুবককে শুক্রবার দুপুরে আটক করা হয়েছে। বাঁকী আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’