মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

গণপতি পরিবার হত্যা: পুলিশি বয়ানের আড়ালে যে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৮ অপরাহ্ন
গণপতি পরিবার হত্যা: পুলিশি বয়ানের আড়ালে যে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে
ঢাকা পড়ে যাবে পুরো পরিবারের করুণ পরিণতি?

মাদক সেবনের দৃশ্য দেখে ফেলায় ‘লজ্জা পেয়ে’ গভীর রাতে একই পরিবারের চারজন মানুষকে হত্যার যে বয়ান পুলিশ দিয়েছে, তা শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, ঘটনার পর নিহতদের বাথরুমেই খুনিদের গোসল করা, ফ্রিজ থেকে বের করে শসা-খেজুর খাওয়া এবং বিদ্যুতের লাইন কেটে অন্ধকারে ঘরে সোনা পরীক্ষা করার বিবরণগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত সংশয় তৈরি করেছে। এই অসঙ্গতিগুলো নিয়ে যখন ব্যাপক আলোচনা চলছে, তখনই আদালতে আসামিদের দায় স্বীকারের খবর আসে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, “দুই আসামি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।”


অথচ রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে মাছুয়া পাড়ায় দোতলা বাড়িটি করেছিলেন। স্ত্রী প্রীতিলতা, কারমাইকেল কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশকে নিয়ে এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবার। চার চারটি নির্মম মৃত্যুর পর ঘটনার মূল মোটিভ উদঘাটনের বিষয়টি যেখানে প্রাধান্য পাওয়ার কথা, সেখানে তদন্তের শুরুতেই পুলিশের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত সন্দেহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।


অপরাধ সমাজবাস্তবতার অংশ হলেও, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ আড়াল করে সুবিধাজনক কোনো আখ্যান তৈরি করা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল বা দুর্বল সূত্রের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত তদন্ত শেষ পর্যন্ত মূল অপরাধীদের আড়াল করতেই সহায়তা করে বলে এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বার আসা শব্দগুলোর কয়েকটি ‘জজ মিয়া নাটক’। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নোয়াখালীর নিঃস্ব যুবক ‘জজ মিয়া’-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গণপতি পরিবার হত্যার পর প্রতিবেশী দুই তরুণের গ্রেপ্তারের পর সামষ্টিক স্মৃতিতে সেই জজ মিয়ার কথা ফিরিয়ে এনেছে।


গণপতি চক্রবর্তীর সেই শখের বাড়ি থেকে গোটা পরিবারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া গেছে ছাদে। মা ও মেয়ের মরদেহ পড়ে ছিল সিঁড়িতে, আর ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে খাটের নিচে। মরদেহগুলোর অবস্থান দেখেই বোঝা যায়, সেদিন রাতে বাড়িটিতে কতটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রত্যেকে বাঁচার জন্য প্রাণপন লড়াই করেছে।


হত্যার খবর শুনে বাড়ির সামনে যখন শতশত লোক জড়ো হয়েছে, তখন গণপতির এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে কারা যেন গণপতি চক্রবর্তীর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। নামধাম বলেননি তার কাছে, তবে ব্যাপারটার একটা মিটমাট তিনি করেছিলেন বলে জানিয়েছেলেন।


এর মধ্যেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামের দুই প্রতিবেশী তরুণকে সঙ্গে করে। দুজনের বাড়িই গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি-লাগোয়া। একজন স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে ও অপরজন স্থানীয় মাছের আড়তে কাজ করেন। পুলিশ শুরু থেকেই নিশ্চিত করে বলতে শুরু করেছে, এই দুজনই হত্যাকারী। হত্যার মোটিভ হলো, রাতের শেষ দিকে পাশের নির্মাণধানীন ভবন টপকে এই দুইজন গণপতিদের ছাদে এসেছিলেন ইয়াবা সেবন করতে। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী বেরিয়ে এসে এদের দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়, এরপর একে একে বাকিরাও বেরিয়ে এলে তাদেরকেও হত্যা করা হয়। কারণ পরিবারের লোকজন হত্যাকারীদের চিনে ফেলেছিল।


পুলিশের এই ত্বরিৎ পদক্ষেপ প্রশংসা পেতে পারত। যদি জনমনে বিশ্বাস তৈরি করতে পারত যে, ঘটনাটা এমনই এবং প্রকৃত অপরাধীদেরকেই ধরা হয়েছে। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিকগণ এমন কিছু প্রশ্ন তুলেছেন যেগুলোর উত্তর পুলিশ এড়িয়ে গেছে। এরপর গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আরও অনেক প্রশ্ন উঠেছে যেগুলো ধর্তব্যে আনা জরুরি।


পুলিশ দাবি করেছে, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ সেদিন রাতে গণপতি বাবুর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনটি বাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর ছাদে কেন ইয়াবা খেতে আসতে হলো তাদের? কেউ যদি নিরিবিলিতে ইয়াবা খেতে চায়, সে তুলনামূলক নিরাপদ স্থান বাদ দিয়ে কেন এমন একটি বাড়ির ছাদে আসবে যেখানে যে কেউ দেখে ফেলার আশঙ্কা থাকে? আবার যে ব্যক্তি অন্যের বাড়ির ছাদে মাদক সেবন করতে আসে, সেতো এই ঝুঁকি নিয়েই আসে যে কেউ দেখে ফেলতে পারে। জেনেবুঝে কারও বাড়ির ছাদে মাদক সেবন করতে আসা দুজন ব্যক্তি শুধু তাদের দেখে ফেলেছে বলেই একটা পরিবারের চারজনকে হত্যা করে ফেলবে?


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, পাশের নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে চক্রবর্তীদের বাড়ির দোতলার ছাদে হয়তো যাওয়া যাবে, তবে যাওয়াটা বেশ কঠিন। দুই ভবনের মাঝখানে কিছুটা শূন্য জায়গা রয়েছে। তাহলে ওরা এল কী করে? পুলিশ এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেছেন।


এর সঙ্গে গত দুদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে নানা প্রশ্ন। ইয়াবা সেবনের প্রক্রিয়া এমন যে, এর জন্য আগুন জ্বালাতে হয়, দরকার বদ্ধ স্থান, এর জন্য বাড়ির ছাদের মতো খোলা জায়গা মোটেও উপযুক্ত নয়।


পুলিশের বয়ানে ভুক্তভোগীরা হত্যাকারীদের সামনে একে একে আসতে থাকেন এবং তাদের সবাইকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়। প্রথমে গণপতি, এরপর তার স্ত্রীকে গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তবে মেয়ের ক্ষেত্রে বর্ণনাটি কিছুটা আলাদা—তাকে শ্বাসরোধ করতে রশিও ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হত্যাকারীরা তাৎক্ষণিক রশি কোথায় পেল? শুধু আগামীর ক্ষেত্রেই কেন রশি ব্যবহার করতে হলো? গলায় রশি পেঁচালে ঘাড় না ভেঙে চোয়াল ভাঙে—এমন গল্পও শুনতে হচ্ছে। অবশ্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবলু কিশোর বিশ্বাস স্থানীয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বললেন, চোয়াল ভাঙার কোনো লক্ষণ তারা পাননি। যদিও এর আগে পুলিশ কমিশনার চোয়াল ভাঙার কথা ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেছিলেন।


একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও তার স্ত্রী হত্যাকারীদের বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারার কথা নয় কি? ছোট্ট আয়ুশ যদি তখন ঘুমিয়েই থাকে, তাহলে তাকে হত্যার প্রয়োজন পড়ল কেন? চারজন মানুষকে একে একে হত্যা করা হলো, এরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি? চিৎকার করেনি? অপরাধীদের শরীরে একটা আঁচড়ও পড়েনি? তার চিহ্ন কোথায়?


সে রাতে বাড়িটিতে আসলে কি হয়েছিল, নারীদের ওপর কোনো ধরনের নিপীড়ন হয়েছে কি না, এসব সন্দেহ খতিয়ে না দেখে, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হয়ে কোনো সম্ভাব্য ঘটনাকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করার কারণেই মানুষের মনে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।


এর সঙ্গে আছে মাদকের গল্প। বাংলা সিনেমায় আমরা একসময় দেখতাম, আসামিকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ‘মস্তিষ্ক বিকৃতির’ অভিনয় করানো হতো। বাংলাদেশে এখন কেউ কোনো অপরাধ করলেই তাকে মাদকসেবী বা মাদক বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। এতে মনে হয় দায় এড়ানো সহজ হচ্ছে।


এবার আসামিদের প্রসঙ্গে আসা যাক। পুলিশ যে দুজন—মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে দ্রুততার সঙ্গে আটক করেছে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দুজনের কেউই মাদকাসক্ত নন। সিদ্ধার্থের মা ও বাবা- বারবার একই দাবি করেছেন। পুলিশ কিন্তু চাইলেই এটি প্রমাণ করতে পারে। যদি তারা মাদকসেবী না হয়ে থাকেন, তাহলে পুলিশের বর্ণিত হত্যার মোটিভ আরও বেশি প্রশ্নের মুখে পড়বে। একজন ইয়াবাসেবী কি করে একটা স্বর্ণালঙ্কারের দোকান বা মাছের আড়তে চাকুরি করতে পারেন, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।


ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গ্রেপ্তারের সময় সিদ্ধার্থ যে শার্টটি পরেছিলেন, আগের রাতে উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাও একই শার্ট পরেছিলেন। দুজন ব্যক্তির শার্ট একই রকম হতেই পারে, কিন্তু এই একরকম হওয়াটা একটু বেশি কাকতালীয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা রংপুরের ডিবি ডিসি সনাতন চক্রবর্তী এরই মধ্যে এটি কাকতালীয় বলেই দাবি করেছেন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, “আড়ং ব্রান্ডের ওই জামা রংপুরে আমিসহ আরও দুশো জনের আছে। একই ধরনের শার্ট আরও অনেকেরই থাকতে পারে। এটিকে সামনে এনে ঘটনা ভিন্ন ভাবে প্রচারের চেষ্টা চলছে।”


আড়ং যে একই ডিজাইনের কোনো পোশাক খুব বেশি তৈরি করে না, সেটা সবারই জানা আছে। রংপুরেই দুশো জনের ওই শার্ট আছে বলে পুলিশ কর্মকর্তা অতিশয়োক্তি করে ফেলেছেন। অতিশয়োক্তি করার কারণও আমাদের অনুমিত। ওই শার্ট দুটি সনাতন ও সিদ্ধার্থ কে কোথা কিনেছেন, সেটা পুলিশের পক্ষে জানাটাই সবচেয়ে সহজ।


আরেকটা কাকতালীয় ব্যাপার নিয়ে নিন্দুকেরা কথা বলছেন। সেটা হলো খুন হয়েছে একটা হিন্দু পরিবার। খুনি দুজনও হিন্দু। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং ময়না তদন্তকারী ডাক্তারও হিন্দু।


আমি দাবি করছি না এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংখ্যালঘু হত্যার কোনো সম্পর্ক আছেই আছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পরপর মাত্র এক মাসের মাথায় সংখ্যালঘুদের অন্তত ১১০০ বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। গত বছরের অগাস্ট মাসে এই রংপুরেই দুই হিন্দু ভায়রা ভাইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ছিল রোমহর্ষক। ময়মনসিংহে দীপু দাসকে যেভাবে পিটিয়ে ও পরে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটিও সারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


মাসখানেক আগে গাইবান্ধায় রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোক্তা সেই যুবককে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরকম ঘটনা আরও অনেক আছে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সরাসরি গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছি না; কিন্তু একের পর এক ঘটনায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, তা উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই।


বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষ যে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করেন, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। ব্যাপক ধর্মীয় মেরুকরণ, উগ্রবাদের উত্থান এবং সামাজিক অসহিষ্ণুতার কারণে সংখ্যালঘুদের একটি অংশের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে। এটি শুধু ধারণাগত দাবি নয়। ১৯৬১ সালেও যে দেশে সাড়ে ১৮ শতাংশ হিন্দু জনগোষ্ঠি ছিল, সেটি এখন সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। শখের বশে মানুষ তার মাতৃভূমি ছাড়ে না।


আমি গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যাকাণ্ডকে ‘এথনিক ক্লিনজিং’-এর উদাহরণ হিসেবে আনতে চাইছি না। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বিতাড়নের, নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা আছে কিনা, সেসব গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।


গণপতি পরিবার যদি স্রেফ মাদকসেবীদের হাতে খুন হন, এটি যথাযথভাবে উদঘাটন হোক। কিন্তু এর পেছনে যদি চাঁদাবাজি, সম্পত্তি দখল, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে, সেটিও প্রকাশ্যে আসতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চর্চা হওয়া অসংখ্য ডটকে মেলানোর দায় কিন্তু পুলিশেরই। ভুল মোটিভের ওপর দাঁড়ানো তদন্ত শেষ পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধীদেরই সুবিধা দেয়।


পাশাপাশি চারটি চিতায় গণপতি পরিবারের শেষকৃত্য হয়ছে। তাদের ভস্ম হয়ে যাওয়া শরীরের মতো এই নির্মম হত্যাকাণ্ড যেন ইস্যুর চাপে হারিয়ে না যায়, প্রকৃত অপরাধী যেন সাজা পায়, মানুষ এই আশাটুকু করে।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ