মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪২ অপরাহ্ন
শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ—কথাটি সহজ হলেও সেই ভবিষ্যৎকে কতটা নিরাপদ করে তোলা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিশুর শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিশুর জন্য নিরাপদ ও বিকাশবান্ধব পরিবেশ গড়তে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহীর একটি হোটেলে ‘ক্যাটালাইজিং হোল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।


ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি), বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের অধ্যাপক ড. হ্যাপি কুমার দাসসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।


আলোচনায় বিআইজিডি ও আইসিডিডিআরবির বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে শিশুর প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ বা ইসিডি খাতে অগ্রগতি হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। শিশুর সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


বক্তারা বলেন, শিশুর বিকাশ কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা পরিবারের দায়িত্ব নয়। পরিবার, সমাজ, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষার ব্যবহার, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে।


সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর এক ছাত্রীর আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু ও কিশোরদের মানসিকভাবে দৃঢ় করে গড়ে তুলতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। জীবনের ব্যর্থতা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি না হলে অনেকেই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।


জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার উদ্যোগ শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক হলে চলবে না। উপজেলা থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে হবে।


তিনি বলেন, ‘আমরা কথায় বলি, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কিন্তু বাস্তবে আমরা তাদের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছি।’ শিশুদের নিরাপত্তা ও সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইসিডি কমিটির সদস্য, উন্নয়নকর্মী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।