মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

দুধ ভাল রাখতে জ্যান্ত ব্যাঙ!

সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৬ অপরাহ্ন জীবনশৈলী
সোনার দেশ ডেস্ক ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৬ অপরাহ্ন
দুধ ভাল রাখতে জ্যান্ত ব্যাঙ!

দুধ টাটকা রাখতে আজকাল ফ্রিজের ওপর আমাদের ভরসা ষোলআনা। কিন্তু যখন ফ্রিজ ছিল না, তখন মানুষ কী করত? বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের দিনে দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়া আটকানোর উপায়ই বা কী ছিল? সম্প্রতি বিজ্ঞানের আলোয় উঠে এসেছে এক অদ্ভুত অথচ বাস্তব তথ্য। একসময় রাশিয়া ও ফিনল্যান্ডের মতো দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ দুধ ভালো রাখতে জ্যান্ত ব্যাঙ পাত্রের ভেতর ডুবিয়ে রাখতেন।


শুনতে যতই অদ্ভুত কিংবা অস্বস্তিকর লাগুক না কেন, গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই প্রথা কোনও  অন্ধবিশ্বাস বা নিছক রূপকথা ছিল না। এর পেছনে ছিল খাঁটি জৈবিক কারণ। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সেখানকার গ্রামীণ সমাজে সাধারণত ‘রানা টেম্পোরারিয়া’ নামের এক বিশেষ প্রজাতির বাদামি ব্যাঙ দুধের পাত্রে রাখা হতো। নির্দিষ্ট সময় পর ব্যাঙটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে নেওয়া হতো। স্থানীয়দের বিশ্বাস ছিল, এতে দুধ সহজে টক হয় না বা নষ্ট হয়ে যায় না।


প্রথাটির পেছনের আসল রহস্য ফাঁস হয় ২০১২ সালে, যখন মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই বাদামি ব্যাঙের ত্বক থেকে এমন কিছু ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড’ বা ক্ষুদ্র প্রোটিন কণা নিঃসৃত হয়, যা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো দুধ নষ্টকারী ক্ষতিকর অণুজীবের বৃদ্ধি আটকে দেয়।


বিজ্ঞানীরা ওই ব্যাঙের ত্বকে ৭০টিরও বেশি এমন নতুন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইডের সন্ধান পান, যা ব্যাকটেরিয়া দমন করতে দারুণ কার্যকর। ব্যাঙটি দুধে থাকার সময় অনবরত এই পদার্থগুলো নিঃসৃত করতে থাকত, যার ফলে দুধ দ্রুত টক হওয়া থেকে রক্ষা পেত। আর এই বৈজ্ঞানিক কারণেই যুগ যুগ ধরে প্রথাটি মানুষের মাঝে টিকে ছিল।


শুধু দুধ সংরক্ষণেই নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতেও এই আবিষ্কার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকগুলো যখন অনেক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকারিতা হারাচ্ছে, তখন এই ব্যাঙের ত্বকের উপাদান থেকে নতুন ধরনের জীবনদায়ী ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন গবেষকরা। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকায় এই গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।


তবে বিজ্ঞানসম্মত হলেও বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা— আজকের দিনে বাড়িতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার ভুল যেন কেউ না করেন। আধুনিক স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য সুরক্ষার মানদণ্ডে এমন পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে, আধুনিক বিজ্ঞান যে সত্যে আজ পৌঁছাল, প্রকৃতির পাঠশালা থেকে বহু বছর আগেই তার কার্যকর প্রয়োগ শিখে নিয়েছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষরা।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন