রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং স্বপ্নপূরণে অধ্যবসায়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) কলেজের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয় সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ এবং ফুল দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনসিসি, রোভার, রেড ক্রিসেন্ট ও রেঞ্জার দলের সদস্যরা অংশ নেন।
কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. জুবাইদা আয়েশা সিদ্দীকা নবীন শিক্ষার্থীদের শরতের শিউলি ফুলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনসহ কলেজের অন্যান্য গুণী প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে। মনোবল বাড়িয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে হবে। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি এবং পাঠ্যবই অধ্যয়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমরা নারী, আমরা সবকিছু পারি।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বপ্নপূরণের কোনো শর্টকাট পথ নেই; এর জন্য প্রয়োজন নিরন্তর অধ্যয়ন ও কঠোর পরিশ্রম। শুধু বিদ্যা অর্জন করলেই হবে না, প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত হয়ে উঠতে হবে। সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কেউ কারও প্রতিযোগী নয়, প্রত্যেকে প্রত্যেকের সহযোগী।” পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন তিনি। কলেজে শিক্ষার্জনের জন্য বেছে নেওয়ায় নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান অধ্যক্ষ।
অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কোর্স প্ল্যান তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক নাহিদা ইসলাম শিমু।