সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন করলেন গ্রামের নারীরা

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন করলেন গ্রামের নারীরা

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন করেছেন গ্রামের নারীরাই। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে উদযাপিত অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও প্রথা ভেঙে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে বসানো হয় গ্রামের একজন প্রবীণ নারী কৃষককে। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের বাদ দিয়ে সভাপতির আসনেও বসানো হয় গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে।


পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামে বিশ্ব গ্রামীন নারী দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গ্রামীন সংস্কৃতির লালন সঙ্গীতের আসর, গ্রামীন মেলা, আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নানা আয়োজনে উবিনীগ ও নয়াকৃষি আন্দোলন ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গোয়ালবাথান গ্রামের প্রবীন নারী কৃষক মোছা. ছামিদা বেগম। সভাপতিত্ব করেন গোয়ালবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. রোকসানা বেগম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদীর সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুবির কুমার পাল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন, উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রাজিবুল হাসান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সেলিম সরদার, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় হিসাব রক্ষক শাহ্ আলম, উবিনীগের হিসাব রক্ষক সাইফুল ইসলাম।


বক্তব্য দেন বীজ সংরক্ষণকারী নারী নিহার বানু, নারী মৎস্যজীবী রোমেলা বেগম, কুটির শিল্পী শিখা রানী দেব প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির সমন্বয় করেন উবিনীগ ও নয়াকৃষি আন্দোলন ঈশ্বরদী আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়ক আজমিরা খাতুন ও গবেষক গোলাম মোস্তফা রনি। অনুষ্ঠানস্থলে কুটির শিল্প, মাটির তৈরি গ্রামীন সংস্কৃতির বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রের প্রদর্শনী করা হয়। এক পরিবারের তিন প্রজন্মের গ্রামীন শিল্পী ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ শিল্পী হাশেম ফকির, তার ছেলে সাইদুল ইসলাম ও নাতি সৈকত ইসলামসহ স্থানীয় শিল্পীরা লালন সঙ্গীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানস্থল মাতিয়ে তোলেন। এসময় গ্রামের প্রবীণ নারীরা গ্রামের হারিয়ে যাওয়া গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।