সমন্বিত উদ্যোগে রাজশাহী রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে: ভূমিমন্ত্রী
জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে রাজশাহী রেশমশিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, রেশমকারখানার উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন পাওয়ারলুম চালু করছে। এখন সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগে রাজশাহী সিল্কের বিশ্বজোড়া সুনাম পুনরুদ্ধার সম্ভব।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড চত্বরে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় দুই লাখ তুঁতচারা রোপণ এবং রেশমকারখানার ১৫টি পাওয়ারলুম চালুর কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, কারখানার উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে আরও ২৫টি লুম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
রেশমশিল্পের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, একসময় বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল, যার অন্যতম ভিত্তি ছিল ঐতিহ্যবাহী মসলিন ও রেশমশিল্প। তবে পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও অভ্যন্তরীণ নানা ভুলের কারণে রাজশাহীর রেশমশিল্প ক্ষতির মুখে পড়ে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিকর কোন্দল পরিহার করে রেশমকারখানাকে জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে সুরক্ষা দিতে হবে। যোগ্য কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে। সবাইকে একটি পরিবারের মতো কাজ করে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে হবে।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের বিশেষ উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সবাইকে সম্মিলিত ত্যাগ, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাঈদ চাঁদ, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা এবং রেশমপণ্য ব্যবসায়ী মো. আসলাম সরকার।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।