চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গোৎসব শুরু, মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৬৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নানা রঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুরা ভিড় করছেন পূজামণ্ডপে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে প্রতিটি মণ্ডপে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনসহ বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার মধ্যে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ষোড়শ উপচারে পূজার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানাবেন।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা চলে। তবে এ বছর পঞ্জিকা অনুযায়ী সপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় উৎসবের ব্যাপ্তি হচ্ছে ছয় দিন। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে, কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী দুর্গা তাঁর বাপের বাড়ি মর্ত্যলোকে আসেন। পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, অসুরের অত্যাচারে দেবতারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হলে অশুভ শক্তির বিনাশে তাঁদের সম্মিলিত তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন মহাশক্তির প্রতীক দেবী দুর্গা। তিনি অসুরবিনাশিনী ও দুর্গতিনাশিনী হিসেবে পূজিত হন।
দেবীর আগমনকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। নানা রঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুরা মণ্ডপে আসছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপনে মেতে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জে ৫১টি, গোমস্তাপুরে ৩২টি, নাচোলে ১৭টি এবং ভোলাহাটে ৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে তাঁদের ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেছেন।