দুর্গাপূজার বাজারে বাড়তি দাম, খৈ-নাড়ু-চিড়া-মুড়িতে কেজিতে ২০ টাকা বেশি
শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের সামনে বসেছে খৈ, নাড়ু, চিড়া-মুড়ি, মুড়কি, জিলাপি ও খেলনাপাতির অস্থায়ী দোকান। তবে গত বছরের তুলনায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। খৈ, মুড়ি, চিড়া ও নাড়ুসহ বিভিন্ন পণ্যে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বেড়েছে শিশুদের খেলনার দামও। এতে উৎসবের কেনাকাটা করতে এসে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পূজামণ্ডপের সামনে অস্থায়ী দোকানগুলোতে শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে পূজার নানা উপকরণ কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে বাড়তি দামের কারণে চাহিদামতো কেনাকাটা করতে পারছেন না অনেকে।
খেলনা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার গত ৪৩ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে আসেন তিনি। এবার শহরের কলেজ রোডে ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সামনে খেলনার পসরা সাজিয়েছেন।
আব্দুস সাত্তার বলেন, এবার সব জিনিসের দামই বেশি। গত বছর যে টমটম গাড়ি ৩০ টাকায় বিক্রি করেছেন, এবার তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। পাখিগাড়ির দাম ৪৫-৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০-৬৫ টাকা। আর ৩০ টাকার বাঁশি এবার বিক্রি করছেন ৫০ টাকায়।
মন্দিরের সামনে বসা খৈ, মুড়ি, চিড়া ও নাড়ুর দোকানগুলোতেও একই চিত্র। ঈশ্বরদী বাজারে এবার নাড়ু তৈরির প্রধান উপকরণ নারকেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। এ ছাড়া কদমা, ছাঁচসহ চিনি ও গুড়ের তৈরি মিষ্টান্ন প্রস্তুতের উপকরণ চিনি, দুধ ও তেলের দাম বাড়ায় এসব পণ্যের দামও বেড়েছে।
ঈশ্বরদীর শতবর্ষী মৌবাড়িয়া দুর্গামন্দিরের সামনের অস্থায়ী দোকানি রঞ্জন দাস জানান, গত বছর চিনির তৈরি কদমা প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এবার তা বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। একইভাবে ১২০ টাকার ছাঁচ বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। চিনির খাগড়াইয়ের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। ধানের খই ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং ভুট্টার খই ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা কেজি হয়েছে। চাল-গুড়ের ঝুড়ি ভাজার দামও ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২০ টাকা কেজি।
বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মজিবর রহমান বলেন, চিনিসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুর্গাপূজার এসব পণ্যের দামও বেড়েছে।
শহরের রেলগেট মাতৃমন্দিরের সামনের ব্যবসায়ী মোহন খন্দকার বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজায় ঈশ্বরদীতে অস্থায়ী দোকান বসে। তাঁর ৩০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এবার এত বেশি দামে এসব পণ্য বিক্রি করতে হয়নি। চিনি, তেল, খড়িসহ পণ্য তৈরির প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করেও আগের মতো লাভ হচ্ছে না।
মাতৃমন্দিরের সামনে ছোট নাতনিকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন মানসী সূত্রধর। তিনি বলেন, যেসব জিনিস কেনার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলেন, বাড়তি দামের কারণে তার অর্ধেকও কিনতে পারেননি। নাতনির জন্য খেলনাও কেনা হয়নি। সেটি কিনতে তাঁকে আবার আসতে হবে।
এদিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, কোনো দোকানি অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করলে পৌরসভার মনিটরিং টিম ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দোকানিকে জরিমানাও করা হতে পারে।