সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে চিনা প্রতিষ্ঠানের সাক্ষাৎ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
প্রেস বিজ্ঞপ্তি ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে চিনা প্রতিষ্ঠানের সাক্ষাৎ

বরেন্দ্র  অঞ্চলের সেচব্যবস্থা আধুনিকায়ন, জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং কৃষকদের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী সেচসেবা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ ও স্মার্ট ইরিগেশন প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। এ লক্ষ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের  আওতাধীন প্রায় ১৭ হাজার সেচযন্ত্রে সৌর প্যানেল স্থাপন, জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ক্যাশলেস রিচার্জ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন। শনিবার (১৭অক্টোবর) বিএমডিএর রাজশাহী সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময়ে নেট মিটারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ, অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে সেচের অর্থ পরিশোধ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সেচযন্ত্র পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যম্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (গ্রেড-২)। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চিনের উইলফার ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি ঝাং ঝেনহুয়া ও উইলিয়াম লু এবং ঝেজিয়াং কিবিন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লু চুনহংয়ের প্রতিনিধিরা নেট মিটারিং ও স্মার্ট ইরিগেশন প্রযুক্তির কার্যকারিতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া সানাকোশ অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের (এসএএল) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. শহীদ উল্লাহ, পরিচালক (বিজনেস) আব্দুল্লাহ আল নাফীজ এবং মহাব্যবস্থাপক মো. তুরজাউল হক।


বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকেরা কতটা উপকৃত হবেন, তাঁদের সেচ খরচ কমবে কি না এবং প্রয়োজনের সময় সহজে সেচসেবা পাবেন কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে। কৃষকের কল্যাণ নিশ্চিত না করে কোনো প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা বিএমডিএর উদ্দেশ্য নয়। ক্যাশলেস সেচব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকেরা যেন ঘরে বসেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সেচের টাকা রিচার্জ করতে পারেন, সে ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কৃষকের সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে এবং সেচসেবা গ্রহণ সহজ হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে সেচযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু আমরা এখন ক্যাশলেস সেচব্যবস্থার দিকে একবারে না এগিয়ে ২ থেকে ৩টি গভীর নলকূপে পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ এবং ক্যাশলেস সেচব্যবস্থা প্রযুক্তি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে । পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল, প্রযুক্তির কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং কৃষকদের সুবিধা যাচাই করে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর পরিসরে তা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 


মতবিনিময় সভায়  উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জিন্নুরাইন খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজিরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল লতিফ, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন-অর-রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল আলী সরকার,  নির্বাহী প্রকৌশলী এ,এস.এম দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মতিউর রহমান, মনিটরিং অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম প্রকৌশলীগণসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 


মতবিনিময় সভায় বিএমডিএর আওতাধীন প্রায় ১৭ হাজার সেচযন্ত্রেকে সৌরপ্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ, কৃষকদের সেচসেবা গ্রহণ আরও সহজ, ক্যাশলেস রিচার্জ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব, স্মার্ট ইরিগেশন প্রযুক্তি মাধ্যমে বিএমডিএর সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সেচযন্ত্রের কার্যক্রম, বিদ্যুৎ ব্যবহার, রিচার্জ ও আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।