ঈশ্বরদীতে এমপি আমির হামজার ওয়াজে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রতিহত করবে ছাত্রদল
পাবনার ঈশ্বরদীতে আগামী বুধবার অনুষ্ঠিতব্য একটি ওয়াজ মাহফিলে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এই মাহফিলে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলে তা প্রত্যক্ষভাবে প্রতিহত এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ছাত্রদল। একই সঙ্গে আমির হামজাকে ওয়াজ মাহফিলে তার ব্যাঙ্গাত্মক বক্তব্য পরিহার করার দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবি জানিয়ে ঈশ্বরদী থানায় গতকাল শনিবার একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেছে ছাত্রদল।
তাদের দাবি না মানলে পরিবেশ উত্তপ্ত হবে বলেও জানান ছাত্রদল নেতারা। আগামী বুধবার উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া দারুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ওই মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর এমপি আমির হামজার আগমন নিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল, থানার সামনে নানা ধরনের শ্লোগান, বিক্ষোভ প্রদর্শন ও পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট এবিষয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে ছাত্রদল।
ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিনের নিকট ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মোহন এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। গতকাল বিকেল থেকে এ নিয়ে ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
থানায় দেওয়া স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতারা উল্লেখ করেন, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন ইতিবাচক। তবে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য ও উস্কানিমূলক মন্তব্য বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলো।’
ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মোহনের দাবি, তারা ওয়াজ মাহফিল বন্ধের পক্ষে নন। বরং ধর্মীয় মঞ্চে যেন রাজনৈতিক বা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া না হয়, সেটিই তাদের মূল দাবি। এর আগে বিভিন্ন স্থানে ইসলামি মঞ্চে রাজনৈতিক ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈশ্বরদীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ধর্মীয় মাহফিলকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বাইরে রাখতে প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে মাহফিলের বক্তব্য কোরআন-হাদিসের আলোচনা ও ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মানহানিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করা এবং এ বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এর আগে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেল বহর নিয়ে থানায় আসে। শতাধিক নেতাকর্মী থানার সামনে জড়ো হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।