সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

সৌদি আরব বাংলাদেশিদের মানুষ মনে করে না

সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৫ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৫ অপরাহ্ন
সৌদি আরব বাংলাদেশিদের মানুষ মনে করে না
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব, ফাইল ছবি

সৌদি আরবে সম্প্রতি বাংলাদেশি এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব।


এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন নেটিজেনরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের মাধ্যমে তারা সৌদি আরবের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


সৌম্য সালেক লিখেছেন, ‘সৌদি আরব বাংলাদেশিদের লেবার মনে করে, মানুষ মনে করে না। এই হীনম্মন্যতার অত্যন্ত নির্মম বহিঃপ্রকাশ তারা ঘটিয়েছে বিচারের নামে দুজন বাংলাদেশিকে হত্যার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেনি। এমনকি এত বড় বিষয়টি দূতাবাসকে ন্যূনতম জানানোরও প্রয়োজন বোধ করেনি। নিজেদের আরাম নিশ্চিত করা এবং অন্যের জন্য নির্দয়ভাবে সাজানো তাদের এই জঘন্য কার্যকলাপের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি! তাদের দেশ থেকে প্রতি বছর শত শত নারী নির্যাতিতা হয়ে ফিরে আসছে; সেসবের বিচার নেই। অথচ কে কোথায় কাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছে, তা নিয়ে পবিত্রতা ফলাচ্ছে! শয়তানির সীমা ছাড়িয়ে গেছে তারা।’


ওমর ফারুক হৃদয় লিখেছেন, ‘প্রথম কথা, বাংলাদেশি দুইজনের ঘটনা মসজিদের ভেতর ছিল না। দ্বিতীয় কথা, যে পাকিস্তানি অভিযোগ দিয়েছে ভিডিও করে, তার সাথে ওই বাঙালির শত্রুতা ছিল। তারা একে অপরের রুমমেট ছিল। তৃতীয় কথা, বাংলাদেশি দুইজন জেনার মতো অনৈতিক কাজ করে নাই। জাস্ট জড়িয়ে ধরে আবেগে কিস করেছিল। চতুর্থ কথা, এমন অনৈতিক কাজের জন্য শিরোচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ড হয় না। সৌদির আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারতো।


ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সৌদি আরবের ইমেজে আঘাত লেগেছে তাই এই রকম শাস্তি দিয়েছে। সৌদি আরবের এত ইমেজ তাহলে সৌদির সাধারণ নাগরিক যারা; তারা কাজের বুয়ার সাথে জেনা করে কেন? সৌদির রাজ পরিবারের সদস্য ফাইভ স্টার হোটেলে মদ খেয়ে নারীবাজি করে কেন? আবার সেই হোটেলে এসব করে মরেও থাকে, কী অদ্ভুত ইমেজ মাইরি। আজব পাকিস্তান শু...রের বাচ্চারা।’


মাহমুদ নোমান লিখেছেন, ‘ইহুদিদের দালাল সৌদি, এমন বর্বর দেশে আমি যেতে চাই না। চোখে চোখে চাওয়া মুচকি হাসি, ধরে নিলাম প্রেম অথচ এ দেশ থেকে যাওয়া নারী শ্রমিকদের ওপর বর্বর দেশের বাপ ছেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসবের কোনো বিচার হতে দেখিনি... ধিক্কার জানাই..

.’

এম আই প্রধান লিখেছেন, ‘কথিত অনৈতিক কাজের কারণে আমাদের দুজন বাংলাদেশির গলা কাটা হয়েছে। অথচ ওদের ঘরে ঘরে বাবা-ছেলে সবাই মিলে সুযোগ পেলেই অনৈতিক কাজ করে। আমাদের বাংলাদেশি নারী কর্মী শতশত আছে। যাদের সাথে জোর করে বাপ-ছেলে মিলে অনৈতিক কাজ করার রেকর্ড আছে। শুধু অনৈতিক কাজ না, এরা অত্যন্ত অহংকারী ও নির্মম, নিষ্ঠুর জাতি। কাজের মেয়ে মানুষদের সাথে অনৈতিক কাজ করতে না দিলে নিষ্ঠুর অত্যাচার করারও রেকর্ড আছে অনেক। অথচ মসজিদের মধ্যে অনৈতিক কাজ করার নাম দিয়ে আমাদের বাংলাদেশি এই দুজন মানুষের গলা কেটে মেরে ফেলে দিলো; কিন্তু মানুষ দুটিকে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগটুকুও দিলো না। বাংলাদেশের দূতাবাস আছে সেখানে, তাদেরও জানানোর দরকার মনে করলো না। এমনও তো হতে পারে, এরা দোষই করেনি। কেউ এদের সুযোগ বুঝে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।


তারা দুজনই মুসলমান। মসজিদের মধ্যে এসব কাজ অন্তত কোনো মুসলমান নারী করবে না, এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন। আমি তো বিশ্বাস করিই না। এখন এই দুটি মানুষ যদি নির্দোষ হয়ে থাকে; সেটা তো তারা কাউকে জানাতেও পারলো না।


এটি ওদের কোন বিচার? চাইলো, বসে আলোচনা করে ফাঁসি দিয়ে দিলো! এত বড় একটা রায়, সেটা কার্যকর হওয়ার আগে আসামির পরিবার বা আসামির নিজ দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি কেউ জানবে না? এ কেমন বিচার?’


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ