পোরশায় যাত্রীদের গলায় হাসুয়া ধরে ডাকাতি, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২
নওগাঁর পোরশায় বাস থেকে নেমে বাড়ি ফেরার পথে একটি পরিবারের সদস্যদের গলায় হাসুয়া ধরে ডাকাতির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের শনাক্ত করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি মৃধাপাড়া গ্রামের মহব্বতের ছেলে সুমন (৩০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পোরশা উপজেলার পূর্বগ্রামের বাসিন্দা স্বপন (৩৫) তাঁর স্ত্রী বনিতা (৩০), সন্তান মিনজ ও শিবরাজ (১৩), যুবরাজ (৩), সুস্মিতা মিনজ (১৯) এবং ভাগ্নি শ্যামলীকে (২৪) নিয়ে পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বিআরটিসি বাসে বাড়ি ফিরছিলেন। গত ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাঁরা পোরশা উপজেলার ফুলতলা ব্র্যাক অফিসের সামনে বাস থেকে নামেন। এরপর হেঁটে বাড়ি যাওয়ার সময় একটি মুরগির খামারের পূর্ব পাশে গ্রামীণ সড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে ৩-৪ জন ডাকাত তাঁদের পথরোধ করে। এ সময় ডাকাতেরা তাঁদের গলায় হাসুয়া ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি শাড়ির ব্যাগ, তিন আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল, এক পাটি রুপার নূপুর ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত মামলা গ্রহণ, অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অরূপ রতন সরকার এবং পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
এরপর রোববার ভোরে সাপাহার উপজেলার দিঘীরহাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পোরশা থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধে সাতটি মামলা এবং সুমনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।