নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার
আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর হুমকি বেড়ে যাওয়ায় কাতার একটি নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দোহার গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি বলেন, কাতার নতুন প্রতিরক্ষা জোটের জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
শেখ সৌদ বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমরা শিগগির একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিতে যাচ্ছি।”
এই প্রতীরক্ষা জোটে কোন কোন দেশ অংশ নেবে বা কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
শেখ সৌদ জানান, কাতার সম্প্রতি তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পর্যালোচনা করেছে। এতে বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তাকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বৈদেশিক নীতির কথা স্বীকার করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও জোর দেন।
তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশের নিজস্ব বৈদেশিক নীতি রয়েছে। তবে মূল কথা হলো, আমরা মৌলিক বিষয়গুলোতে একমত।”
উপসাগরীয় জ্বালানি সংকট এখনো চরমে পৌঁছায়নি, কাতারের সতর্কবার্তা
শেখ সৌদি সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরো গুরুতর হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘জ্বালানির ক্ষেত্রে আমরা এখনো সর্বোচ্চ বা চরম পর্যায়ে পৌঁছাইনি’। ‘আগামী দিন ও মাসগুলোতে’ আরো পরিণতির বিষয়ে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি, জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারকে কাতার ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর মুখোমুখি হওয়া প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে (যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র) ইরানি হামলার কয়েক মাস পর তার এই মন্তব্য এল।
শেখ সৌদ জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কারণে এই অঞ্চলের অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে সুদূরপ্রসারী পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
তিনি সতর্ক করেন, এই ধরনের ব্যাঘাত ‘পূর্ব থেকে পশ্চিম এবং পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলকে’ প্রভাবিত করতে পারে।
কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী আরো যোগ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার অবনতি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে উপসাগরীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য দেশগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলোর দেওয়া আর্থিক সহায়তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিরোধ করা গেছে, কর্মকর্তার দাবি
উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন শেখ সৌদ। তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের সামরিক বিনিয়োগ, পারস্পরিক দক্ষতা ও সমন্বয় আঞ্চলিক দেশগুলোর আসন্ন হুমকি প্রতিহত করার ক্ষমতাকে উন্নত করেছে।
শেখ সৌদের মতে, এই সক্ষমতার মাধ্যমেই সংঘাত চলাকালীন সময়ের ‘৯০ শতাংশেরও বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে’।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বের প্রমাণ হিসেবে তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় কাতার যখন তার সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে চাইছে, ঠিক তখনই নতুন এই পরিকল্পিত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের বিষয়টি সামনে এলো।
সিরিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার
আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি কাতার সিরিয়ার সঙ্গেও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করছে। সম্প্রতি দামেস্কে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব এবং কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লেকউইয়া’-র প্রধান খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিশরিন প্রাসাদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রক্ষা করতেই কাতার একাধারে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট এবং দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতার পরিধি দ্রুত প্রসারিত করছে।
তথ্যসূত্র: তুর্কি টুডে, রাইজিংবিডি