দক্ষিণ কোরিয়ায় যৌন নিপীড়নের দায়ে ধর্মীয় নেতার ৩৩ বছরের কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ায় নারী অনুসারীদের যৌন নিপীড়নের দায়ে জং মিয়ং সিওক (৮১) নামে এক ধর্মীয় নেতাকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তিনি ‘প্রভিডেন্স’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি ‘জিসাস মর্নিং স্টার’ (জেএমএস) নামেও পরিচিত। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৬ নারী অনুসারীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডেজন জেলা আদালত এ রায় দেন। প্রসিকিউটরেরা তাঁর ২৭ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন।
আদালত বলেছেন, অপরাধের পুনরাবৃত্তি, ভুক্তভোগীর সংখ্যা, ধর্মীয় কর্তৃত্বের অপব্যবহার এবং আগের কারাদণ্ড ভোগ করে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় অপরাধে জড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জং নিজেকে ‘মসিহ’ বা ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করে অনুসারীদের ওপর মানসিক প্রভাব বিস্তার করতেন। ধর্মীয় নেতার প্রতি তাঁদের অগাধ বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে তাঁরা যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারেন। এরপর তাঁদের বারবার যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির শিকার করা হয়। দক্ষিণ চুংচেওং প্রদেশের গিউমসান এলাকায় সংগঠনটির উলমিয়ংডং প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়।
আদালত বলেন, ধর্মীয় সংগঠনের প্রধান হিসেবে জং নিজেকে প্রত্যাবর্তনকারী প্রভুর সমতুল্য ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে একাধিক নারী অনুসারীকে বারবার নিপীড়ন করেছেন। ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের কাঠামো ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় কঠোর শাস্তি অনিবার্য।
রায়ে জংয়ের ব্যক্তিগত তথ্য ১০ বছর প্রকাশ্যে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ের জন্য শিশু-কিশোর ও প্রতিবন্ধীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে তাঁর কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ১৫ বছর ইলেকট্রনিক নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জংয়ের সহযোগী ও সংগঠনটির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা কিম জি সনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁকে ১০ বছর সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করা থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি যৌন অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত ৮০ ঘণ্টার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০০১ সালে যৌন অপরাধের অভিযোগ ওঠার পর জং চীনে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে সেখানে গ্রেপ্তারের পর ২০০৮ সালে তাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চার নারী অনুসারীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে তিনি আগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং ১০ বছরের সাজা ভোগ করে ২০১৮ সালে মুক্তি পান।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে হংকংয়ের এক নারীকে যৌন নিপীড়ন এবং অস্ট্রেলীয় ও দক্ষিণ কোরীয় দুই অনুসারীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় তাঁকে আরও ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ৩৩ বছরের সাজাটি আগের ওই দণ্ড থেকে পৃথক।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা অসলাইন