মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

৮০ কি.মি পাড়ি দিয়ে ধানের শীষে সাজানো মোটরসাইকেল নিয়ে জনসভাস্থলে আসাদুল

নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩২ অপরাহ্ন
৮০ কি.মি পাড়ি দিয়ে ধানের শীষে সাজানো মোটরসাইকেল নিয়ে জনসভাস্থলে আসাদুল

মোটরসাইকেলের চারপাশে বাঁশের কাঠামো। তাতে সারি সারি ধানের শীষ। সামনে দুই পাশে দুটি জাতীয় পতাকা। ব্যতিক্রমী এই সাজে মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহীর জনসভাস্থলে এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মো. আসাদুল ইসলাম। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে চান তিনি। তার দাবি, সার ও জ্বালানি তেলের সংকট দূর করে এসব পণ্যের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।


মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের প্রধান ফটকের সামনে দেখা যায় আসাদুলের মোটরসাইকেলটি। ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা দেখতে সেখানে ভিড় করেন অনেকে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ছবিও তোলেন। 


আসাদুলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানালেন, বংশপরম্পরায় তাদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাবা ও দাদার আমল থেকেই তারা এ দলের রাজনীতি করছেন। দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই মোটরসাইকেলটি এভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করেন তিনি।


আসাদুল জানান, নিজের পরিকল্পনায় মোটরসাইকেলের চারপাশে বাঁশের কাঠামো তৈরি করে তাতে ধানের শীষ


সাজিয়েছেন। সামনে দুই পাশে রেখেছেন জাতীয় পতাকা। তার উদ্দেশ্য, মোটরসাইকেলটি দেখে মানুষ আকৃষ্ট হবেন এবং এর মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নজরে আসতে চান তিনি।


আসাদুলের কাছে ধানের শীষ শুধু রাজনৈতিক প্রতীক নয়, কৃষক ও কৃষিরও প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, কৃষিজমিতে সেচের ব্যবস্থা করাসহ কৃষির উন্নয়নে কাজ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সেই ভাবনা থেকেই মোটরসাইকেলে ধানের শীষ সাজিয়ে কৃষকের কথা তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।


বর্তমান কৃষকদের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আসাদুল। তার অভিযোগ, সার ও জ্বালানি তেল নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় এসব উপকরণের সংকট দূর করতে হবে। একই সঙ্গে সার ও জ্বালানি তেলের সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।


আসাদুলের ইচ্ছা, সুযোগ পেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে নিজের দাবি তুলে ধরবেন। প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহীতে আসার পেছনেও রয়েছে সেই প্রত্যাশা। তার মতে, মোটরসাইকেলটি মানুষের নজর কাড়লে কৃষকের সমস্যার কথাও আলোচনায় আসবে। তিনি জানিয়েছেন, পথে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। নির্বিঘ্নেই রাজশাহীতে পৌঁছেছেন।


জনসভায় আসা মানুষের ভিড়ের মধ্যে ধানের শীষে সাজানো মোটরসাইকেলটি আলাদা করে নজর কাড়ে।


মোটরসাইকেলটি ঘিরে মানুষের কৌতূহল দেখে আশাবাদী আসাদুল। তবে তার প্রত্যাশা শুধু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা নয়। তিনি চান, কৃষকদের সংকটের বিষয়টি তারেক রহমানের নজরে আসুক এবং সার ও জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। তার বিশ্বাস, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করা গেলে দেশের কৃষি ও অর্থনীতিও উপকৃত হবে।