বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬

সৌদি আরবে ভিক্ষা করলে কী শাস্তি, প্রবাসীদের জন্যও রয়েছে যে আইন

সোনার দেশ ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১৮ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১৮ অপরাহ্ন
সৌদি আরবে ভিক্ষা করলে কী শাস্তি, প্রবাসীদের জন্যও রয়েছে যে আইন
ছবি সংগৃহীত

সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তি সব ধরনের পরিস্থিতিতেই নিষিদ্ধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আর সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ রিয়াল জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। দণ্ডিত বিদেশিদের সাজা শেষে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া এবং পুনরায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিধানও রয়েছে।


সৌদি আরবের ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী আইন এবং দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে অনুমোদিত এ আইনে ভিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি অন্যকে ভিক্ষায় প্ররোচিত করা, এ কাজে সহায়তা করা এবং সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তি পরিচালনার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


কী শাস্তির বিধান রয়েছে?

সৌদি আরবের ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী আইনের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা কিংবা অন্যকে এ কাজে প্ররোচিত, সহযোগিতা বা সহায়তা করার অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।


অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকা, এ ধরনের দল পরিচালনা করা কিংবা অন্যকে এতে যুক্ত করতে প্ররোচনা বা সহায়তা করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ রিয়াল জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দ্বিগুণ হতে পারে। তবে তা সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণের বেশি হতে পারবে না।


রিয়াদে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশি-ভারতীয়সহ আটক ৪রিয়াদে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে সৌদি আরবের এ আইনে দণ্ডিত অ-সৌদি নাগরিকদের সাজা শেষ হওয়ার পর দেশটি থেকে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি তাদের পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। তবে আইনে সৌদি নাগরিকের স্ত্রী বা সৌদি মায়ের সন্তানদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশি বা ভারতীয় অথবা অন্য কোনও প্রবাসী এ আইনে দণ্ডিত হলে তার কারাদণ্ড বা জরিমানার পাশাপাশি বহিষ্কার এবং ভবিষ্যতে সৌদি আরবে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও রয়েছে।


অনলাইনে ভিক্ষা চাইলেও কি শাস্তি হবে?

সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তি শুধু রাস্তাঘাট বা জনসমাগমস্থলে অর্থ চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে, এমনকি আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও ভিক্ষা চাইলে আইনের আওতায় আসতে পারে। তাই অনলাইনে অর্থের আবেদন করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা বা সংঘবদ্ধভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হলে শাস্তির বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।


দান করতে হবে বৈধ মাধ্যমে

সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ নাগরিক ও বাসিন্দাদের ভিক্ষুকদের সরাসরি অর্থ না দিয়ে অনুমোদিত দাতব্য সংস্থা ও বৈধ মাধ্যম ব্যবহার করে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা জানাতে ৯১১ নম্বরে এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। আইনটির মূল লক্ষ্য ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এ কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় মানুষকে শোষণ করা এবং সংঘবদ্ধ ভিক্ষাবৃত্তির বিস্তার রোধ করা।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন