বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে অতিরিক্ত ডিআইজির সেই বাড়িতে কী কী হতো

সোনার দেশ ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৮ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৮ অপরাহ্ন
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে অতিরিক্ত ডিআইজির সেই বাড়িতে কী কী হতো
রাজধানীর তিনশো ফিটে পুলিশ কর্মকর্তার সেই বাড়ি

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে গত এক বছর ধরে নিয়মিত ডিজে পার্টির আয়োজন করা হচ্ছিল। এসব পার্টিতে অংশ নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হতো। মাসে ২০ থেকে ২৫ দিন বসতো এই আয়োজন। অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগই উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য ও তাদের সন্তান বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির।


তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর তিনশো ফিটের সেই বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। ভবনটিতে প্রবেশ করে ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সীসা সেবনের কারণে পরিবেশ ধোঁয়াচ্ছন্ন ছিল।


মালিকানাধীন বাড়িতে মাদকের আসর: অতিরিক্ত ডিআইজি জহির সদর দফতরে সংযুক্তমালিকানাধীন বাড়িতে মাদকের আসর: অতিরিক্ত ডিআইজি জহির সদর দফতরে সংযুক্ত


অভিযানের সময় ভবনটিতে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। ইলিয়াস কবির বলেন, ‘আটক নারীদের সবাই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। অন্যদিকে, আটক পুরুষদের মধ্যে কেউ শিক্ষার্থী, কেউ করপোরেট চাকরিজীবী, আবার কেউ ব্যবসায়ী।’

অনলাইনে নিবন্ধন, জনপ্রতি ৬০০ টাকা


ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পার্টির আয়োজন করা হতো। অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। প্রতিটি আয়োজনে অংশ নিতে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা দিতে হতো। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।


অভিযানের সময় পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করলে পার্টি বন্ধ হয়ে যায়। উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন কক্ষে চলে যান। ভবনটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ ছিল।


অভিযানে মদের তিনটি বোতল, ইয়াবা ও কুশ নামের একটি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া যৌনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়।


আটক ৮৫ জনের সাজা

বাড়িটি থেকে আটক ৮৫ জনের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়ে ইলিয়াস কবির জানান, পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগ করতে হবে।


অন্যদিকে, নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন দিন কারাভোগ করতে হবে।


তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন