বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬

কানের দুল ও সম্পদের লোভে বোনকে হত্যা, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫

নওগাঁ প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নওগাঁ প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
কানের দুল ও সম্পদের লোভে বোনকে হত্যা, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫

কানের স্বর্ণের দুল, জমানো টাকা ও গবাদিপশুর লোভ- এর সঙ্গে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়া এবং জমিজমা নিয়ে বিরোধ। এসবের জেরে নওগাঁর ধামইরহাটে ৬৫ বছর বয়সী হালিমা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তাঁরই ছোট ভাই, ভাবিসহ পাঁচজন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর দুল খুলতে বৃদ্ধার এক কানের লতি কেটে এবং অন্যটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬) ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বুধবার (২১ অক্টোবর) নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেন (৪৫)। তাঁদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


পুলিশ সুপার জানান, গত ১৯ অক্টোবর সকালে ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানখেতের আইলে হালিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর একটি কানের লতি কাটা এবং অন্যটি ছেঁড়া অবস্থায় দেখতে পায়। এ ঘটনায় ধামইরহাট থানায় হত্যা মামলা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। ওই দিন গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে মজনু ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকা থেকে অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিঃসন্তান হালিমা বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনুর ঘরের পেছনে একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস করতেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। তাঁর জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি মজনু ও তাঁর স্ত্রীর লোভ ছিল। অন্যদিকে, স্থানীয় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় রবিউল এবং জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধের কারণে হামিদুর ও মোশারফ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এসব বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ দিন আগে পাঁচজন মিলে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।


পুলিশ সুপার আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামিদুর কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। পরে অন্য আসামিরা তাঁর মুখ চেপে ধরে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যান। সেখানে রশি দিয়ে হাত বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর স্বর্ণের দুল নেওয়ার জন্য হামিদুর তাঁর এক কানের লতি কেটে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। পরে মরদেহ বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে দুল দুটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে পালিয়ে যান আসামিরা।


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।