রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং ২০২৭-এর মাঝামাঝি
আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের(আরএনপিপি) দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক ফুয়েল(জ্বালানি) ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী এই এ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটটিতে প্রস্তুতির কাজ চলছে।
তবে এই মুহূর্তে প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু করার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, দুই ইউনিট বিশিষ্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরু করার জোর প্রস্তুতি চলছে।
প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পর দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদনে যাওয়ার যাওয়ার কাজ শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছরের শুরুর দিকেই সব কাজ সম্পন্ন করে এ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটকে জ্বালানি লোডের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
গত ১১ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) এ অনুমোদন দেয়।
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এই নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এই নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রকল্পটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি। তবে এর পরেও আরও কিছু প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে উৎপাদনে যেতে হবে। চলতি বছর শেষের দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এরপরই দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রথম ইউনিটের কারণে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ থেমে নেই। দ্বিতীয় ইউনিটকেও যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করার কাজ চলছে। এ ইউনিটের অবকাঠামোগত কিছু কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। সেগুলো শেষ করার কাজ এগিয়ে চলছে।
এদিকে গত ২ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে দেশে আসা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এ জ্বালানি আসার কার্যক্রম চলবে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৭টি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য ২টি, সব মিলিয়ে মোট নয়টি কার্গো উড়োজাহাজ এ পারমাণবিক জ্বালানি আসবে বলে রোসাটমের সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়াও রাশিয়ার বাইরে রূপপুরে রোসাটমের প্রথম প্রকল্প যেখানে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) সরবরাহকৃত এ ব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট সাত হাজারেরও বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হবে, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা করবে।
রোসাটম জানায়, এ ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস )। বিদ্যুৎ ইউনিটের ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরএএসইউ এটি তৈরি করেছে। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে সিস্টেমটি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এটি স্টার্ট-আপ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
দ্বিতীয় ইউনিটের এ সব কাজ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে। ফুয়েল লোডিং ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার আগের সব ধাপগুলো একে একে দ্রুত সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সব প্রস্তুতির পর ফুয়েল লোডিংইয়ের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের(বায়রা) অনুমতির বিষয় রয়েছে। অনুমতির পেলে ফুয়েল লোডিং কাজ শুরু হবে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, আগামী বছর মাঝামাঝি অর্থাৎ জুন মাসের দিকে দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হতে পারে। এই লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্টরা অগ্রসর হচ্ছেন। ফুয়েল লোডিংয়ের পর চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলৈ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমরা এখন যত দ্রুত সম্ভব প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু করার চেষ্টা করছি। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও যথাযথভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হলে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদনে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রাশিয়ার প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম। এর দুইটি ইউনিটের প্রত্যেকটিতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ