বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

মেঝের নিচে মাদকের গোপন গোডাউন, ১১ লাখ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

৩ হাজার ৭০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজা উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ন
মেঝের নিচে মাদকের গোপন গোডাউন, ১১ লাখ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

রাজশাহীর কাটাখালীতে বাড়ির টাইলস করা মেঝের নিচে ড্রাম দিয়ে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা হয়েছিল মাদকের গোপন গোডাউন। সেই গোডাউনে ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। সেখান থেকে মাদক বিক্রির নগদ ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ ঘটনায় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের একজনের কাছ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও গাঁজা বিক্রির ৩ হাজার ২১০ টাকা উদ্ধার করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৪) ও মো. মানিক ইসলাম (৪৪)। গত ২১ অক্টোবর রাত পৌনে ১১টার দিকে আরএমপির বিশেষ মাদকবিরোধী টিম কাটাখালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় এমাদপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির ৩ হাজার ২১০ টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মানিক ইসলাম পালিয়ে যান।


পরে গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২২ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে মানিক ইসলামের বসতবাড়িতে অভিযান চালায় কাটাখালী থানা পুলিশ। আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএমের নির্দেশনায় থানার ওসির নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মেঝের টাইলসের নিচে ড্রাম দিয়ে তৈরি গোপন গোডাউন পাওয়া যায়। সেখানে একটি ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা ৩ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে নগদ ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মানিক ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এবং রাজশাহীর বাঘা, বোয়ালিয়া ও মতিহার থানায় চারটি মাদক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া কাটাখালী থানায় দুটি ও মতিহার থানায় একটি পেনাল কোডের মামলা এবং মতিহার থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় আটটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে কাটাখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।