বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

পুঠিয়ায় সরকারি রাস্তার পাশের ১৪ মেহগনি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে

দুই দফায় গাছ উধাও, ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৪ অপরাহ্ন
পুঠিয়ায় সরকারি রাস্তার পাশের ১৪ মেহগনি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে

রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি রাস্তার পাশ থেকে দুই দফায় ১৪টি বড় মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি গাছ কেটে নেয়ার দায় স্বীকার করেছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর ও ২১ অক্টোবর উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের দুটি স্থানে এসব গাছ কাটা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগে স্থানীয় দুই ব্যক্তির নাম এলেও এখন পর্যন্ত গাছ জব্দ কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। দিনের বেলায় রাস্তার পাশের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর জিউপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বারুর মোড় এলাকায় পাকা রাস্তার পাশ থেকে ১০টি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান এসব গাছ কেটেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্থানীয় মনসুর রহমানের ছেলে। এরপর গত ২১ অক্টোবর একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপাড়া বাজারসংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে আরও চারটি বড় মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ধোপাপাড়া গ্রামের শিক্ষক আবু বাক্কার মাস্টারের নাম উঠে এসেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় গাছগুলো কেটে নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সরকারি রাস্তার পাশের গাছ এভাবে কেটে নেওয়ার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ দখল বা অপসারণের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তবে গাছগুলোর মালিকানা এবং সেগুলো কাটার অনুমতি ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


বারুর মোড় এলাকার গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে মতিউর রহমান বলেন, “আমি গাছ লাগিয়েছি, আমি কেটে নিয়েছি।” রাস্তার দুই পাশে তাঁর জমি রয়েছে এবং তিনি রাস্তার ধারে গাছ লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে গাছ কাটার বিষয়ে কাউকে জানানোর প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে জমির মালিকানা ও গাছের অবস্থান-সংক্রান্ত তাঁর দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখন নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।” 


অন্যদিকে, পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, “বিষয়টি দেখার জন্য একজন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি। রাস্তার গাছ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ওদের হলে ওরা নিয়ে যাবে।”


সরকারি রাস্তার পাশের গাছের মালিকানা নির্ধারণ, গাছ কাটার অনুমতি ছিল কি না তা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।