প্রশাসনের আশ্বাসে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত
প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা আবার কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়। আলোচনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নিরসন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের ২৫২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়েন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা জানান, ওষুধের সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বিকল্প চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসরঞ্জামের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। তাঁদের দাবি, কখনো কখনো সংঘবদ্ধভাবে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা আরও জানান, হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। সীমিত জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতির মধ্যে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কর্মবিরতি স্থগিত হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাজে ফেরার কথা রয়েছে। তবে পাঁচ দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসনের আশ্বাসের পাশাপাশি ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর বাস্তব সমাধান কতটা হয়, তা এখন দেখার বিষয়।