বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬

এইচএসসি : চাঁপাইনবাবগঞ্জে হতাশাজনক পাশের হার

মো. সাজেদুল হক সাজু ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
মো. সাজেদুল হক সাজু ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন
এইচএসসি : চাঁপাইনবাবগঞ্জে হতাশাজনক পাশের হার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। জেলায় এবার পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তবে সামগ্রিক ফলাফলের এই চিত্রের বিপরীতে কয়েকটি কলেজ ভালো ফল করেছে। বিশেষ করে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে জেলার সর্বোচ্চ ৮৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো করেছে। অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমে এসেছে ২০ শতাংশেরও নিচে।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ৯ হাজার ৮২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৭৬৭ জন। জেলায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪৮ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১ হাজার ৫৬১ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ২০৬ জন ছাত্রী। অর্থাৎ পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫ অর্জনেও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন।


কলেজভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারে জেলায় শীর্ষে রয়েছে নাচোলের এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪১ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পুঠুরিয়া মহিলা কলেজের ১৫৬ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১৩০ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ জন।


অন্যদিকে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে ৮৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৬৭ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় প্রতিষ্ঠানটি জেলার সব কলেজের শীর্ষে। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে পাসের হার ৬১ দশমিক ২১ শতাংশ। ৫৪৪ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৩৩ জন। গোপালতলা মহিলা কলেজে পাসের হার ৫৫ দশমিক ১০ শতাংশ।


তবে জেলার বেশ কয়েকটি কলেজের ফলাফল উদ্বেগজনক। পার্বতীপুর এসবি আদর্শ কলেজে পাসের হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সাহাপাড়া পারভীন স্মরণী টেকনিক্যাল কলেজে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, নাচোল সরকারি কলেজে ১৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং নামোশংকরবাটী কলেজে মাত্র ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। রাধানগর বরেন্দ্র কলেজে পাসের হার আরও কম, মাত্র ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ভোলাহাট কলেজে মানবিক বিভাগের একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর আগেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেউ পাস করেননি।


শুধু এইচএসসি নয়, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষার ফলাফলও হতাশাজনক। জেলার ২৭টি মাদরাসার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বাকি ২৬টি প্রতিষ্ঠানের কেউ জিপিএ-৫ পাননি। শংকরবাটি হেফজুল উলুম ফায়েজা খানম কামিল মাদরাসার বিজ্ঞান বিভাগের ওই দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেন। অন্যদিকে ঝলঝলিয়া ইসলামী সমাজকল্যাণ আলিম মাদরাসায় ১০ জনের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। কয়েকটি মাদরাসায় পাসের হার ২০ শতাংশেরও নিচে।


বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, এবার সারা দেশেই শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে পারেননি। বিগত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য বিপর্যয়ের  পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের অমনোযোগিতা নয়, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষকস্বল্পতা, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও যথাযথ তদারকির অভাবও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ নয়, পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে পাঠদানের মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।