বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬

স্ত্রীর মুন্ডু হাতে নিয়ে বাড়ির পাশে মন্দিরে বসে গঙ্গারামপুরের যুবক! ঘুরলেন গোটা পাড়া

সোনার দেশ ডেস্ক ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৫৫ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৫৫ অপরাহ্ন
স্ত্রীর মুন্ডু হাতে নিয়ে বাড়ির পাশে মন্দিরে বসে গঙ্গারামপুরের যুবক! ঘুরলেন গোটা পাড়া
গঙ্গারামপুর থানার সিভিক ভলান্টিয়ারেরা ধরে রেখেছেন অভিযুক্তকে। —নিজস্ব চিত্র।

কারও ঘুম ভেঙেছে চিৎকার-হট্টগোলে। খোঁজ নিতে গিয়ে আঁতকে উঠেছেন। কেউ চোখ কচলে বাড়ির বাইরে গিয়ে চমকে গিয়েছেন। বুধবার সকালবেলা চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর শহরে।


স্ত্রীকে খুন করে তাঁর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে ঘোরার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। প্রতিবেশীরা দেখার আগে বাড়ির পাশে মন্দিরে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু নিয়ে বসেছিলেন তিনি। সকলের চিৎকারে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। একহাতে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু, অন্য হাতে ছিল একটি কাটারি!


অভিযুক্তের নাম রিন্টু ঘোষ। বাড়ি গঙ্গারামপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকায়। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, আগে সরকারি বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন ওই যুবক। বেশ কিছু দিন হল সেই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন অথবা ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পর থেকে বাড়িতেই থাকতেন। তবে আপাত ‘শান্ত’ লোকটি যে এমন কাণ্ড ঘটাবেন, কেউ ভাবেননি।


রিন্টুর এক প্রতিবেশী জানান, এলাকার ওই মন্দিরটি খোলাই থাকে। সকালবেলা লোকজনের চোখে পড়ে সেখানে রিন্টু বসে রয়েছেন। বেশ কিছু ক্ষণ পরেও তিনি মন্দির থেকে বেরোননি দেখে কৌতূহলের বশে উঁকি দেন এক ব্যক্তি। কিন্তু ভিতরের দৃশ্যে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি সেই ব্যক্তি। তাঁর চিৎকার-চেঁচামেচিতে অন্যান্য প্রতিবেশী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। মন্দিরের মধ্যে রিন্টুকে দেখে সকলেই তখন হতবাক।


মন্দিরের সামনে লোক জমা হতে দেখে কাটা মুন্ডু হাতে নিয়েই বাইরে বেরিয়ে আসেন ওই যুবক। ভয়ে-আতঙ্কে সকলে পিছিয়ে যান। খবর যায় থানায়। পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়। উদ্ধার হয়েছে রিন্টুর স্ত্রী সীমা সরকারের মুন্ডু এবং মুণ্ডবিহীন দেহ।


প্রতিবেশীদের দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরেই এই ঘটনা। রাজেশ প্রামাণিক নামে রাজেশের এক আত্মীয় বলেন, ‘‘দুই ছেলে আর স্ত্রী, ওই নিয়ে রিন্টুর সংসার। ঘুম থেকে উঠে শুনলাম, ও মন্দিরে বসে আছে। তার পর শুনলাম, স্ত্রীকে খুন করে মুন্ডু হাতে নিয়ে মন্দিরে বসে আছে। কী বলব বুঝতে পারছি না!’’ ওই ব্যক্তি জানান, কাজ যাওয়ার পর কিছুদিন ছোটখাটো ব্যবসা করছিলেন রিন্টু। সেটা এখন করেন কি না জানেন না। রাজেশের কথায়, ‘‘কিছু দিন ধরে নিরামিষ খাবার খেত। তান্ত্রিকের মতো হয়ে কাজকারবার করত। ঠিক কী কারণে এই কাণ্ড ঘটাল মাথায় ঢুকছে না কারও।’’

গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁর স্ত্রীর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন