শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

‘রাজবাড়ি’ ভেঙে ফেলার পর কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

WP Import ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৪২ অপরাহ্ন
WP Import ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৪২ অপরাহ্ন
‘রাজবাড়ি’ ভেঙে ফেলার পর কাজ বন্ধ করল প্রশাসন
‘রাজবাড়ি’ ভেঙে ফেলার পর কাজ বন্ধ করল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থিত দিঘাপতিয়ার রাজবংশের রাজা হেমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়ের বাড়িটি আর না ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর আগে দুই সপ্তাহ থেকে এই বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির নিচে সুড়ঙ্গও পাওয়া গিয়েছিল। নগরীর সিপাইপাড়া এলাকায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে এই ‘রাজবাড়ি’র অবস্থান।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারিরা গিয়ে ভাঙার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি দোতলা দুটি বাড়ির প্রায় সবই ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধু মেঝের নিচে থাকা সুড়ঙ্গের ইটগুলো তোলা বাকি আছে।

ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ জায়গার মালিক ছিলেন সন্দীপ কুমার রায়। তার বাবা রাজা হেমেন্দ্র নারায়ণ রায়। ভূমি অফিসে কাগজপত্রে জমির মালিকের ঠিকানা লেখা রয়েছে দিঘাপতিয়া স্টেট, বলিহার, নাটোর। রাজা হেমেন্দ্র রায় ছিলেন দিঘাপতিয়ার রাজবংশের রাজা প্রমথনাথের চার ছেলের একজন।
নথিপত্রে দেখা গেছে, ১৯৮১ সালে এই সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি (ভিপি) ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের পর আর কোনো সম্পত্তি ভিপি ঘোষণা করা যাবে না। ১৯৭২ সালে এ সম্পত্তির আরএস রেকর্ড প্রকাশ হয়। তাতে মালিক হিসেবে সন্দীপেরই নাম রয়েছে।

বাড়িটি ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের নামে ইজারা ছিল। ইজারা বাতিল করে বাড়িটি অপসারণের জন্য সম্প্রতি মাত্র ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় সবকিছুই এক ব্যক্তির কাছে নিলামে বিক্রি করেছে বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস।
বুধবার দুপুরে বাড়িটি পরিদর্শনে গিয়ে হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, এ বাড়ির বয়স আনুমানিক ১২০ বছর। এখন যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখানে থাকা নাগলিঙ্গমের গাছটি যেন কাটা না হয়, এটি খুবই বিরল।

মাহবুব সিদ্দিকী আরও বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা হয়তো এখানে আসেননি। তারা না দেখেই এটা নিলাম দিয়েছেন। তারা এখানে এলে হয়তো এর প্রতœতাত্ত্বিক গুরুত্ব বুঝতে পারতেন। বাড়ির নিচে সুড়ঙ্গের মতো থাকলেও এটি মূলত সুড়ঙ্গ নয়, এটি প্রাচীন নির্মাণশৈলীর ছাপ। বাড়ির নিচ দিয়ে বাতাস চলাচলের জন্য এটি করা হতো।
রাজবংশের জায়গাটি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীত পাশে, প্রধান সড়ক ঘেঁষে। জনশ্রুতি আছে, পুঠিয়ার মহারানি হেমন্ত কুমারী রাজশাহী এলে এই দোতলা বাড়িতে থাকতেন। রাজপরিবার চলে যাওয়ার পর বাড়িটি পরিত্যক্ত ছিল। স্বাধীনতার পর বাড়িটি ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানের নামে ইজারা দেয় সরকার। মনোয়ারা রহমান রাজশাহীর প্রথম নারী উদ্যোক্তা। তিনি এ বাড়িতে মহিলা কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান নামের একটি সংগঠন চালাতেন। এর মাধ্যমে তিনি হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রায় ১০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন।

মনোয়ারা রহমান ২০০৯ সালে মারা গেলে বাড়িটি আবারও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। সম্প্রতি এ বাড়ির ইজারা বাতিল করে বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়। এরপর পরিত্যক্ত বাড়িটি নিলামে বিক্রি করা হয় ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায়। নিলামের ক্রেতা শ্রমিকদের দিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে বাড়িটি ভেঙেছেন।
বোয়ালিয়া থানা ভূমি কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন বাড়িটি এখন যেভাবে আছে, সেভাবেই আপাতত রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার দুপুরে আমাদের অফিস থেকে লোকজন গিয়ে সেখানে লালসালু টাঙিয়ে দিয়ে এসেছেন। শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

আরিফ হোসেন আরও বলেন, জায়গাটা নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত ছিল। আপাতত সবকিছুই স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দেয়ালের যেসব ইট ভাঙা হয়ে গেছে, সেগুলো নিলামে নেওয়া ব্যক্তি সরিয়ে নেবেন। তারপর আর একটি ইটও তুলতে পারবেন না। যেভাবে যা আছে, সেভাবেই থাকবে। কর্তৃপক্ষ আগে সবকিছু যাচাই-বাছাই করে দেখবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।