ছাত্রত্ব বাতিলের ১০ বছর পর সিজিপিএ ৪ পেয়ে মাস্টার্স উত্তীর্ণ হলেন রফিকুল

রাবি প্রতিবেদক:
ছাত্রত্ব বাতিলের পর দীর্ঘ এক দশকের ভোগান্তি ও জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফলিত গণিত বিভাগ থেকেই মাস্টার্স উত্তীর্ণ হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। রাবি প্রশাসনের রিভিউ শেষে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে তাঁর মাস্টার্সের চূড়ান্ত ফলাফল। এতে তিনি সিজিপিএ ৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ২০০৭-২০০৮ সেশনে ফলিত গণিত বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষে তিনি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরের বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করে। তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। তবে জেল থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আবারও প্রথম হন তিনি। অনার্সে ৩.৮০ সিজিপিএ পেয়ে ১ম স্থান লাভ এবং অর্জন করেন গোল্ড মেডেল।
২০১৪ সালে বিভাগে ২ জন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে রফিকুল এপিয়ার্ড সনদ দিয়ে আবেদন করেন। এরপরই শুরু হয় নতুন জটিলতা। একই বছর বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর শামসুল আলম সরকারের বিরুদ্ধে নম্বরপত্র টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তোলা হয়, যার সঙ্গে রফিকুলকেও জড়ানো হয়। যদিও পরবর্তীতে তদন্তে এর সত্যতা মেলেনি। পরে বিভাগের আরেক শিক্ষক প্রফেসর আশরাফুজ্জামান খান আকাশ তৎকালীন উপাচার্যের কাছে রফিকুলের ব্যাপারে থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ করেন। রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত সুপারভাইজার কর্তৃক থিসিস জালিয়াতির অভিযোগে রফিকুলের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর রেজিস্ট্রেশন পুনর্বহালের আবেদন করেন রফিকুল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিভিউ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়ে সনদ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৬তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সিন্ডিকেটে রিভিউ কমিটি গঠন করে। কমিটি যাচাই করে থিসিস পুনঃসংশোধনের নির্দেশ দেয়। সংশোধিত থিসিস মূল্যায়নের পর আজ তাঁর ফল প্রকাশ করা হয়।
ফল প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় রফিকুল ইসলাম বলেন, আল্লাহর কাছে শুধু চেয়েছিলাম, মৃত্যুর আগে যেন সম্মানটা ফিরে পাই। আজ সেই দোয়া কবুল হয়েছে। এ সম্মান ফিরে পেতে অনেকের ত্যাগ রয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করার পেছনে যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কী ব্যবস্থা নেবে?