শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

১৭ বছর কারাবরণ শেষে বাড়ি ফিরলেন বিডিআর সদস্য নজরুল

WP Import ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন জাতীয়
WP Import ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন


বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :


১৭ বছর কারাবরণ শেষে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় নাটোরের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে রাত ৯টায় নিজ বাড়ি বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা গ্রামে পোঁছেন।

বাড়ি ফেরার পর তার কান্না থামছিলো না, কারণ তিন বছর আগে মারা গেছেন তার স্নেহের বড় সন্তান নাহিদ ইসলাম। সেই সন্তানের মুখ আর দেখার সুযোগ পায়নি তিনি। স্ত্রী ও প্রতিবেশী সবাই আবেগে চোখে পানি ফেলছেন। তবে ছেলের অনুপস্থিতি যেন সেই আনন্দকে বিষাদে পরিণত করেছে।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ১২ বছর চাকরি করে কী এমন অপরাধ করেছিলাম, যার জন্য বিনা অপরাধে ১৭ বছর জেল খাটতে হলো। যদি সঠিক বিচার হতো, তাহলে এত কষ্ট পেতাম না। পরিবারের কাছে ফিরেছি ঠিকই, তবে দেখা হলো না স্নেহের সন্তানের মুখ।

অনেক নিরপরাধ মানুষ এখনো কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন, যাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ জানান, সেই নিরপরাধ মানুষগুলোকে মুক্তি দেয়ার।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিলখানায় ঘটে যাওয়া বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় কারাবরণ করেন তিনি। তখন রেখে গিয়েছিলেন দুই স্নেহের সন্তান শাপলা খাতুন ও নাহিদ হোসেনকে।

নজরুল ইসলামের দুই সন্তানই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। পুত্র সন্তান নাহিদ ইসলাম অকালে চলে গেছেন। মেয়ে শাপলা খাতুন বিয়ে হয়ে অন্যের ঘরে চলে গেছেন।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, স্নেহের সন্তান নাহিদ ইসলাকে উচ্চ শিক্ষিত করেছিলাম। সে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করছিল। কর্মক্ষেত্রেই হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়। কারাগারের ভেতরে থেকে সন্তানের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার যন্ত্রণা তা প্রকাশ করার মতো নয়।

মুক্তি পাওয়ার পর তিনি যখন গ্রাম প্রবেশ করেন, তখন শত শত মানুষ ছুটে আসে তার বাড়িতে, চোখে জল নিয়ে তাকে জগিয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়। কান্নাতে গ্রামের বাতাস ভরে ওঠে কান্না। কিন্তু চোখের গভীরে লুকিয়ে আছে হারানো সময়ের বেদনা। কিন্তু প্রিয় সন্তান নাহিদের চলে যাওয়ার ক্ষত, আর অসমাপ্ত জীবনের দীর্ঘশ্বাস। #