শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বাঘায় চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামী ঘাতক স্বামী সুরুজকে গ্রেফতার

WP Import ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ অপরাহ্ন
বাঘায় চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামী ঘাতক স্বামী সুরুজকে গ্রেফতার
বাঘায় চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামী ঘাতক স্বামী সুরুজকে গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিবেদক :


র‌্যাব-৫, সিপিএসসি, রাজশাহীর ও র‌্যাব-৪, সিপিসি-১, মিরপুর ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দিনগত রাত ১২:১০ টায় রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ (লালডেগ) এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্ত্রীর শরীরে ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের এজাহারনামীয় ১নং আসামী ঘাতক স্বামী সুরুজ (৩২)কে গ্রেফতার করেছে। ধৃত আসামী বাঘা থানার চক নারায়ণপুরের শহিদুল মাঝির ছেলে। খবর বিজ্ঞপ্তির।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর পূর্বে ভিকটিম অনন্যা খাতুন মুন্নি (২৫) এর সাথে এজাহারনামীয় ১নং আসামী সুরুজ (৩২) এর বিয়ে হয় এবং তাদের ২ টি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর ভিকটিমের শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে প্রায়শই গালিগালাজ ও অপমান করতো। এছাড়া তাদের প্ররোচণাতেই ১নং আসামি ভিকটিম এর নিকট হঠাৎ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে।

ভিকটিমের পরিবার তার সংসারে সুখের কথা বিবেচনা করে ২০১৮ সালের মে মাসে ১ লাখ টাকা যৌতুক প্রদান করে। এর পরেও ভিকটিমের স্বামী সুরুজ তার পরিবারের সদস্যদের প্ররোচনায় ভিকটিমকে আরও দেড় লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ভিকটিম যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে ১নং আসামী বিভিন্ন সময়ে মারপিট এবং শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ সন্ধ্যা অনুমান-৬:১৬ ঘটিকার সময় ২নং বিবাদীর প্ররোচনায় ১নং বিবাদী ভিকটিমকে উক্ত দেড় লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তুমুল ঝগড়া ও চড়-থাপ্পড় মারে। একই তারিখ ঘটনাস্থল বাঘা থানার চক নারায়ণপুর গ্রামস্থ ১নং বিবাদীর শয়ন কক্ষে ভিকটিম শুয়ে পড়লে ১নং বিবাদী আবারও ঝগড়া শুরু করে।

১ নভেম্বর ভোর ৪ ঘটিকায় ১নং বিবাদী যৌতুকের টাকার জন্য ভিকটিম এর উপর রাগ করে বাড়ির উঠানে নিয়ে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে গায়ে ডিজেল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ভিকটিম এর চিৎকারে স্থানীয়রা ভিকটিমকে উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ডাক্তার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করলে ওনদিন সকাল ৮ টায় ভর্তি করে এবং বিকাল ৫.৪০ ঘটিকায় চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারিত হয় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে বাঘা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঠিক তথ্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামীদেরকে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।