সৌদি পাড়ি দিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন বাগমারার এনামুল

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইয়ানুস আলীর ছেলে এনামুল হক সৌদি আরবে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরে এলেন। স্থানীয় দালালদের খপ্পরে পড়ে সঠিক জায়গায় কাজে না পাঠিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে সৌদি আরব যেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তার।
ইউনুছ আলী আশা করেছিলেন, ছেলে এনামুল হক সৌদি আরবে গিয়ে পরিবারের দুঃখ দূর করবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বাড়ি ফিরলেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। এখন ঋণের বোঝা আর ছেলের রেখে যাওয়া স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা ইয়ানুস আলী।
রোববার দুপুরে এনামুল হকের লাশ নিজ গ্রাম রাজশাহীর বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এক আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেনের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আনামুল। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে আলী আবদুল্লাহ আল-মাকরামি কম নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ নেন।
বিদেশ যাওয়ার মাত্র ১৪ দিন পর, ১ অক্টোবর সৌদি আরবের আফিফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় মিশর, সুদান ও পাকিস্তানের নাগরিকসহ আটজনের মৃত্যু হয়, তাঁদের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন এনামুল হক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর পর ১৪ দিন তাঁর লাশ আফিফ শহরের একটি হাসপাতালের মর্গে ছিল। পরে দূতাবাসের সহায়তায় লাশ দেশে আনা হয়।
স্ত্রী বিলকিস বানু বলেন, ১৪ দিন স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। পরে দূতাবাসে ফোন করে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন। ইমতিয়াজ নামে ছয় বছরের এক ছেলে রয়েছে তাদেরর্। ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বিলকিছ বানু। স্বামীকে হারিয়ে পাগল প্রায় হয়ে গেছেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেন মৃত্যুর পরেও তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। তাঁর মোবাইল এখন বন্ধ রয়েছে।
এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও আতিক হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।