পাকিস্তানে যুদ্ধ করতে গিয়ে বাংলাদেশি যুবক নিহত

রতন ঢালীর গ্রামের বাড়ি
সোনার দেশ ডেস্ক:
পরিবারকে না জানিয়ে পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি)-এর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি যুবক রতন ঢালী (২৫)। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার হরিশ্চর গ্রামে। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। গত রোজার পর তার পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা হয়। রতনের নিহত হওয়ার খবর তার বাবা ছাড়া পরিবারের অন্য কেউ জানে না। তবে যারা তাকে এ কাজে জড়িত করেছে, তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুকসুদপুরের হরিশ্চর গ্রামের আনোয়ার ঢালী স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন। চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান রতন ঢালী। রতন ঢাকার খিলগাঁওয়ের একটি মেডিকেল সেন্টারে কাজ করতেন, আর তার বাবা আনোয়ার ঢালী চালাতেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পরে আনোয়ার ঢালী স্ত্রীকে নিয়ে মুকসুদপুরে ফিরে এলেও রতন আর ফেরেননি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের রোজার তিন দিন আগে, ১০ এপ্রিল, পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইলফোনে কথা হয়। এরপর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি।
মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত সহকর্মী ফয়সালকে নিয়ে রতন ঢালী গত বছরের ২৭ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে তারা অবৈধভাবে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে গিয়ে টিটিপিতে যোগ দেন। বিগত ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে রতন ও ফয়সাল হোসেন নামে আরেক বাংলাদেশি নিহত হন। তবে রতনের পরিবার জানতো, তিনি ভারতে আছেন এবং শিগগিরই দুবাই যাবেন।
নিহত রতনের বাবা আনোয়ার ঢালী জানান, রতন শেষবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল। তখন তিনি বলেন, ভারতে আছেন এবং শিগগিরই দুবাই যাবেন। এরপর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি। কয়েকদিন আগে পুলিশ তাদের বাড়িতে এলে রতনের নিহত হওয়ার খবর পান তারা। রতন কীভাবে পাকিস্তানে গেলেন বা কীভাবে টিটিপিতে যোগ দিলেন, তা তাদের জানা নেই। যারা তাকে এ কাজে জড়িত করেছে, তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রতনের মা সেলিনা বেগম বলেন, ২০২৪ সালের রোজার ঈদের (১০ এপ্রিল) দিন শেষবার রতনের সঙ্গে কথা হয়। তখন রতন বলেন, ‘মা, আমি দুবাই যাচ্ছি, এখন দিল্লিতে আছি।’ আমি জানতে চাই, দুবাই যাওয়ার জন্য এত টাকা কোথায় পেলি? তখন রতন বলে, ‘যেখানে কাজ করছি, তারাই টাকার ব্যবস্থা করেছে।’ এরপর থেকে আর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার সিন্ধিয়াঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আলমগীর মিয়া বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রতন ঢালীর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। আমরা তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেই। রতনের বাবা জানান, ঈদের কয়েক দিন আগে ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। কীভাবে পাকিস্তানে গিয়েছেন, তা তিনি জানাতে পারেননি। প্রাপ্ত তথ্য সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি।
প্রসঙ্গত, টিটিপির হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দেশটির যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। নিহতদের একজন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রতন ঢালী (২৯), অপরজন ফয়সাল হোসেন (২২)। তবে ফয়সালের বিস্তারিত ঠিকানা এখনও জানা যায়নি।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ