শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

প্রেমের টানে পাকিস্তানি তরুণী বাংলাদেশে, বিয়ে করলেন আত্রাইয়ের তরুণকে

WP Import ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
WP Import ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
প্রেমের টানে পাকিস্তানি তরুণী বাংলাদেশে, বিয়ে করলেন আত্রাইয়ের তরুণকে
প্রেমের টানে পাকিস্তানি তরুণী বাংলাদেশে, বিয়ে করলেন আত্রাইয়ের তরুণকে

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


তাদের দেশ ভিন্ন। ভাষাও আলাদা। দু’জনেই বড় হয়েছেন পৃথক সংস্কৃতিতে। এমন অনেক অমিল থাকা সত্ত্বেও এক হয়েছেন তারা ভালোবাসার টানে। প্রথমে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। তারপর প্রেম। শুধু তাই নয়, নিজের জন্মভূমি ছেড়ে সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের নওগাঁয় আত্রাইয়ে এসে প্রেমিক রবিউল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের ইতি টেনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পাকিস্তানি তরুণী ফাইজাআমজাদ। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিনদেশি নববধূকে দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের বহলা গ্রামের আব্দুল মন্ডলের ছেলে রবিউল ইসলাম জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় পাড়িজমান। ফাইজা পড়াশোনার সুবাদে রাশিয়ায় থাকতেন, সেখানেই তাদের পরিচয় ও প্রেম।

রবিউল ইসলাম বলেন, আমি জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় যাই। বিদেশ জীবনের একপর্যায়ে ২০২৩ সালে ফাইজাআমজাদের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। পরে ফাইজাআমজাদ তার পরিবারকে আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানান। প্রথমে ফাইজার বাবা-মা সম্পর্ক নিয়ে একটু মনঃক্ষুণœ ছিলেন। পরে পরিবারের সম্মতিতে ফাইজার সঙ্গে ২২ আগষ্ট পাকিস্তানে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

তরুণী ফাইজা আমজাদ বলেন, আমি বাবা-মা’র তৃতীয় সন্তান। আমি রাশিয়াতে পড়াশোনা করার সময় রবিউলের সাঙ্গে পরিচয় হয়। আমি রবিউলকে অনেক বেশি ভালোবাসি। বাংলাদেশে এসে খুবই ভালো লাগছে। রবিউলের পরিবারের সদস্যরা আমাকে মেয়ের মতো গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও এলাকার মানুষের সাথে খুব সহজেই মিশতে পেরে মনে হচ্ছে অনেক আগে থেকেই তাদের সাথে পরিচয় আছে। তিনি আরো বলেন, আমি বাংলাদেশে নাগরিক হয়ে চিকিৎসক পেশায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে চাই।

জামিলের মা বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ছেলের বউ খুব পছন্দ হয়েছে। বাড়িতে আসার পর থেকে সবার সাথে মিলেমিশে চলছে। বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছে। তাকে দেখতে বাড়িতে ছুটে আসছে মানুষ। বউ দেখে এলাকার মানুষও প্রশংসা করছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মামুনুর রশিদ বলেন, রবিউল ও ফাইজা আমজাদ আমার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসেছিলেন। আমিও তাদের সাথে কথা-বার্তা বলেছি। তারা আমাকে জানান তারা একে অপরকে ভালোবেসে দু’জন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।
এদিকে আগে সোশ্যাল মিডিয়া বা খবরে বিদেশি মেয়েরা বাঙালি ছেলের প্রেমের টানে চলে আসে- এমন খবর দেখলেও এখন তা নিজের চোখে দেখে অভিভূত স্থানীয়রা।