শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

শিক্ষকের দিকে খাতা ছুড়ে মারলো ছাত্রী, জ্বীনের আছর রয়েছে দাবি!

WP Import ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৪৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
শিক্ষকের দিকে খাতা ছুড়ে মারলো ছাত্রী, জ্বীনের আছর রয়েছে দাবি!
শিক্ষকের দিকে খাতা ছুড়ে মারলো ছাত্রী, জ্বীনের আছর রয়েছে দাবি!

রাবি প্রতিবেদক:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ক্লাস চলাকালে শিক্ষকের দিকে খাতা ছুড়ে মেরেছেন এক ছাত্রী। এই ঘটনায় সোমবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষক। তবে ছাত্রীর দাবি, তার উপর জ্বিনের আছর ছিল।

অভিযোগকারী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদার। অভিযুক্ত ছাত্রীর নাম তাসনিম জাহান মীম। তিনি একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী।
অভিযোগের ব্যাপারে তাসনিম জাহান মীম বলেন, আমি মানসিক সমস্যাই ভুগছি। আমার উপর জ্বিনের আছর আছে। সেজন্য চিকিৎসাও চলছে। সেদিন আমি অজান্তেই খাতা ছুড়ে মেরেছি। আরও কী কী করেছি, সেগুলো মনে নেই। পরে শুনেছি, সেই পুরো সময় স্যারই আমাকে স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করেছেন। তাই এ বিষয়ে স্যারের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।

প্রক্টর বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে শিক্ষক সাজু সরদার উল্লেখ করেছেন, গত ১৫ মে বিভাগের ৫১৮ নং কক্ষে ২০২১-২০২২ ও ২০২২-২০২৩ সেশনের (বিবিএ ৩য় ও ২য় বর্ষ ২য় সেমিস্টার ২০২৪) শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় আমি চরম অপমানজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। ক্লাসের শুরুতে ধারাবাহিক রোল কলের এক পর্যায়ে আমি তাসনিম জাহান মীমের রোল কল করি। তবে সে রেসপন্স না করে চুপ থাকে। আমি পুনরায় মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করলেও উত্তর না দিয়ে, হঠাৎ করে আমার দিকে ব্যাগ (খাতা) ছুড়ে মারে এবং অসংলগ্ন আচরণ করা শুরু করে। এ পর্যায়ে ক্লাসের তার সহপাঠীদের বলি তাকে শান্ত করতে। তবে তার হাতে বড় বড় নখ লক্ষ্য করে আমি মন্তব্য করি যে, “উনার নখ এতো বড় কেন। সাবধানে ধরুন না হলে আপনাদের ক্ষত হতে পারে।”

এ পর্যায়ে জনাব মীম চিৎকার করে বলে “আমার হাতে বড় নখ, তাতে তোর কী?” উক্ত কথা শোনার পর আমি হতভম্ব ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি। এছাড়া সেদিনের পরেও ওই ছাত্রী ফেসবুকে আমার পাঠদানকৃত কোর্সে প্রাপ্ত নম্বরের বিষয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। বিষয়গুলো অপমানজনক। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তি দাবি করছি।
সাজু সরদার বলেন, ওই ছাত্রীর জ্বিনের আছর ছিলো না। সে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই আমাকে অপমান করতেই এমন করেছে। এমনকি পরবর্তীতে সেটা নিয়ে তার ন্যূনতম অনুশোচনাবোধ নেই, উল্টো পাঠদান ও নম্বর কম দেওয়ার কথা রটিয়েছে। শিক্ষক হিসেবে এটা চরম অপমানের এবং এটার জন্য তার শাস্তির দাবি জানাই।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে ওই বিভাগের আরেক শিক্ষক তানজিল ভূইয়ার স্ত্রী তাঁর স্বামীর সঙ্গে মীমের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছিলেন। তখন সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযোগ তুলে বিচার চেয়েছিলেন তানজিল ভূইয়ার স্ত্রী। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগপত্র দেওয়া আছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদার।