শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ড. মামুনের পোস্ট স্পষ্টতই উস্কানিমূলক ও পেশাগত দায়িত্ববোধের লঙ্ঘন: রাকসু

WP Import ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৩৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
ড. মামুনের পোস্ট স্পষ্টতই উস্কানিমূলক ও পেশাগত দায়িত্ববোধের লঙ্ঘন: রাকসু
ড. মামুনের পোস্ট স্পষ্টতই উস্কানিমূলক ও পেশাগত দায়িত্ববোধের লঙ্ঘন: রাকসু

উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে রাকসু। ছবি: সংগৃহীত

রাবি প্রতিবেদক:


বোরকা ও হিজাব নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আ-আল মামুনের শাস্তি-সহ ৫ দফা দাবিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও বিভাগের সভাপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে রাকসু। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন রাকসু নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ যে, ড. আ. আল মামুন তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক পোস্টে রাকসু নির্বাচনে হল সংসদে বিজয়ী নারী প্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত পোশাক, নারীর ধর্মীয় পরিচয় এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পর্কে অবমাননাকর ও বিদ্বেষপ্রবণ মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি পূর্বের পোস্টগুলোতে ‘বোরকা, ‘কাঠমোল্লা,, ‘মদ, ‘সেক্সুয়াল রেভল্যুশন, ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে উস্কানিমূলক কনটেন্ট দিয়েছেন ও এক পোস্টে টু-কোয়াটার ও মদের বোতল হাতে নিয়ে ক্লাসে আসার এবং একটি ছাত্রসংগঠন ও সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যা স্পষ্টতই উস্কানিমূলক এবং শিক্ষাঙ্গনের নৈতিক মান ও পেশাগত দায়িত্ববোধের গুরুতর লঙ্ঘন।

এই পরিস্থিতিতে রাকসু’র বিবৃতি উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, একজন শিক্ষক হিসেবে ড. আ. আল মামুনের এই মন্তব্য শুধুই ব্যক্তিগত মতামত নয়; এটি শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা-আত্মবিশ্বাস এবং শিক্ষকের দায়িত্ববোধকে চ্যালেঞ্জ করছে। তিনি নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় অনুশাসন ও পোশাককে ব্যঙ্গ করে যে মনোভাব প্রকাশ করেছেন, তা হিজাব-ফোবিয়া এবং নারীবিদ্বেষী মনোভাবে উৎসাহ যোগায়; যা কোনও শিক্ষাগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনুরুপ নয়।

এছাড়া রাকসু-এর দৃঢ় অবস্থান হলো নারীর পোশাকের স্বাধীনতা, হিজাব ও নিকাব কোনো অপরাধ নয় এবং তা পশ্চাৎপদতার চিহ্নও নয়; বরং এটি একজন নারীর নিজস্ব পরিচয়, বিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও শালীনতার প্রতিফলন। একজন শিক্ষক বা নাগরিকের নৈতিক অধিকার নয় কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাককে ব্যঙ্গ করা। এধরনের মন্তব্য ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দেওয়া এবং শিক্ষকের শপথভঙ্গের সমতুল্য।
স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- ড. আ. আল মামুনকে জনসম্মুখে তাঁর এই অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে; ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী শিক্ষকতার শপথ, কর্মসংস্কৃতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা লঙ্ঘনের অপরাধে যথাযোগ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন এই ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ ও উসকানিমূলক মানসিকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে’তার সার্বিক নীতি ও নির্দেশনা অবিলম্বে ঘোষণা করা হোক; ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষক বা কর্মরত ব্যক্তি শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক বা ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করতে না পারেন’এই উদ্দেশ্যে সতর্কতামূলক ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সহিষ্ণুতা, সাম্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জোরদার করার লক্ষ্যে যথোপযুক্ত সেমিনার/ওরিয়েন্টেশন/বড়দিনকর্মসূচি গ্রহণ করা হোক।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এ ঘটনার তদন্ত ও প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে শিক্ষাঙ্গন অনুকূল, নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ হিসেবে বজায় থাকে। রাকসু কর্তৃক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আমরা আমাদের সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে আগামী কর্মসূচি গ্রহণের কথা বিবেচনা করব।

এর আগে, সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে রাবির ছাত্রীদের দুইটি হল সংসদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের সময়কার ছবি যুক্ত করে ক্যাপশনে অধ্যাপক আ-আল মামুন লিখেছিলেন, ‘এই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (বোরকা-হিজাব পরা) আমি এন্ডর্স করছি। কাল আমি এরকম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা পরে ও হাতে নিয়ে ক্লাসে যাবো। পরবো টু-কোয়াটার, আর হাতে থাকবে মদের বোতল। মদ তো ড্রাগ না! মদ পান করার লাইসেন্সও আমার আছে! শিবির আইসেন, সাংবাদিকরাও আইসেন!’

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনমুহূর্তে স্বপ্ন দেখেছিলাম সম্পূর্ণ নতুন এক বাংলাদেশের। কিন্তু এরপরে বহু ঘটনা ঘটেছে, যেমন চেয়েছিলাম, বাংলাদেশ সেদিকে হাঁটেনি। ব্যাপক হতাশা কাজ করে আমার মধ্যে। হতাশাগ্রস্ত আমি ঝোঁকের বশে এমন কিছু লিখি যা লেখা উচিত হয়নি। তা আমি লিখতে চাইওনি। মিস রিডিং হবে বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে আমি পোস্টটি সরিয়ে নিই।… পোশাক বিষয়ে আমার ভাবনা পরিষ্কার- পোশাকের কারণে আমি কাউকে বড় বা ছোট করে দেখি না। ‘হিজাব’ ডিফেন্ড করার মতো অনেক পোস্ট পাবেন আমার।…তারপরও কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে, আমি দুঃখিত।