বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাবি আইন বিভাগের ৭২ বছর পূর্তি উদযাপন

রাবি প্রতিবেদক:
নানা আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও প্রথম পুনর্মিলনী উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় রবীন্দ্র ভবনের উত্তর পাশে এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়।
এরপর ১০টার দিকে রবীন্দ্র ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। সাড়ে দশটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
রাবি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি এস. এম. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান। এছাড়া, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিচারপতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষকবৃন্দ, সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও নবীন আইনস্নাতকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভাটি শুরু হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন ৭২ বছর পূর্তি ও ১ম পুনর্নিলনী আয়োজন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. বেগম আসমা সিদ্দিকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাস্তবতার আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রশাসনিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, নৈতিকভাবে সাহসী ও সংবিধানিকভাবে শক্তিশালী বিচার বিভাগ বিনির্মাণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি বিচার বিভাগ সংস্কারের একটি ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা করেন, যার কেন্দ্রে রয়েছে একটি পৃথক সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা। এই সচিবালয় বিচার প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ন্যায়বিচার ও বিচার ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের অভিগম্যতা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হবে।
মাত্র দু’দিন পূর্বে বিগত ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর নীতিগত অনুমোদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ বিগত ১৫ মাসের সুপরিকল্পিত কৌশলগত প্রচেষ্টা ও বহুপাক্ষিক প্রয়াসের ফল। এই ১৫ মাসে প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাহী শাখার মধ্যে কৌশলগত বোঝাপড়া ও সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, সকল অংশীজনদের একটি মৌলিক সত্য উপলব্ধি করতে হবে যে তারা সকলেই একটি পারস্পরিক দায়বদ্ধতার সম্পর্কে দায়বদ্ধ। তাই সকলের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সহযোগিতা, যুক্তিবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতা। কোনো ধরনের অবিশ্বাস বা একতরফা আচরণ গত ১৫ মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার এই ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই তিনি বিচার বিভাগীয় স্বায়ত্তশাসনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমন্বয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জু। আলোচনা সভার আগে প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। তিনজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে দেওয়া হয় সংবর্ধনা। এছাড়া, বিচারপতি ও সম্মানিত গ্রাজুয়েটদেরও বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে স্মৃতি রোমন্থন অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর রাত ৯টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।