শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

দুর্গাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন,স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

WP Import ২২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০১ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০১ পূর্বাহ্ন
দুর্গাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন,স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ
দুর্গাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন,স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

গোলাম রসুল, দুর্গাপুর:


রাজশাহী দুর্গাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হচ্ছে হোটেল রেস্তোরা গুলোতে। আর এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের এমন চিত্র দেখা গেছে।

এমনকি সড়কের পার্শ্বে খোলা জায়গায় উম্মূক্তভাবে খোলা মেলা ভাবে রেখে খাবারের উপর মশা মাছি ও ধুলাবালি পড়লেও সে দিকে কোন লক্ষ্য না রেখে সে খাবার গুলোই পরিবেশন করা হচ্ছে ক্রেতাদের মাঝে।
উপজেলার সিংগা হাট, কানপাড়া, তিওরকুড়ি, দাউকান্দি, আলীপুর, ধরমপুর, আমগাছী, পালীবাজার, নওপাড়া, শ্যামপুর বাজার, দেবীপুর, পানানগর, গোপালপুরসহ বিভিন্ন হাট বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, খাবার গুলো খোলামেলা উম্মূক্তভাবে রেখে তা ক্রেতাদের মাঝে পরিবেশ করছেন হোটেল মালিকরা। ফলে এসব খাবার খেয়ে ডায়রিয়া, আমাশয় সহ বিভিন্ন পেটের পিঁড়া জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ।
ক্রেতারা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বেশীর ভাগ হোটেলের খাবার ঢেকে না রেখে অবাধে সেগুলো ক্রেতাদের মাঝে বিক্রয় ও পরিবেশন করা হচ্ছে। আর এ কারনে বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দু’পাশে খোলা মেলা ভাবে বিক্রি হচ্ছে ভাজাপোড়। ধূলাবালির মধ্যে ডুবোতেলে ভাজা হচ্ছে পিঁয়াজু, বেগুনি, চপ-চপ ও ছোলা। এসব অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবার শরীরের জন্য কতটা জুতসই তা চিন্তা করেন না অধিকাংশ মানুষ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, না জেনে মানুষ একদিকে যেমন ধূলাবালি যুক্ত অন্যদিকে পোড়া পুরোনো তেলে ভাজা এসব খাবার মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে।
উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তেমন একটা অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় হোটেল রেষ্টুরেন্ট মালিকরা দেধারছে রাস্তার পার্শ্বে খোলামেলা উম্মূক্ত ভাবে খাবার পরিবেশন করে আসছেন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
তারা বলছেন, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অস্বাস্থ্য পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী বিক্রির অভিযোগে হোটেল রেষ্টুরেন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হলে অনেকটাই সচেতন হবে হোটেল মালিকরা। পরিবেশন হবে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার।

হোটেলে খেতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, হোটেলে খেতে হয় বিপদে পড়ে। হোটেলে পরিবেশের দিকে তাকালে খাবার মুখে উঠবে না। এ সব কিছু সহ্য করেই দেখে না দেখার ভান করে খাবার খেতে হয়।
উপজেলা মোড়ে একটি হোটেলে খেতে আশা শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি জানান, এই মোড়ে একটিই খাবার হোটেল। এখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হচ্ছে। খোলা মেলাভাবেই রাখা হয়েছে খাবার। সেই খাবারে পড়ছে ধূলা-বালি ও মাছি। হোটেল না থাকায় বাধ্য হয়েই ওই হোটেলেই খেতে হয়েছে।

সিংগা বাজারে সবজি বিক্রি করতে আসা আবুল হোসেন বলেন, খাবার হোটেল বলেন, আর দোকান বলেন। তারা পুরো খোলা মেলা পারিবেশে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করেন। তাদের কিছু বলতে গেলেই তারা উল্টো কথা সোনায়।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের অধিকাংশ দই-মিষ্টির দোকানে বিক্রি হয় নূন্যতম এক সপ্তাহ পূর্বে তৈরী করা দই মিষ্টি। মশা, মাছি ধূলা বালি পড়লেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। ফলে দেদারসে চালিয়ে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা টাটকা মিষ্টি বলে। ক্রেতারা এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনে উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এবিষয়ে উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সাথে কথাবলা সম্ভব হয়নি।