শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

৩৫ বছর পর সপ্তদশ রাকসু নির্বাচন আজ

WP Import ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
WP Import ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
৩৫ বছর পর সপ্তদশ রাকসু নির্বাচন আজ
৩৫ বছর পর সপ্তদশ রাকসু নির্বাচন আজ

আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শিবির*হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চায় ছাত্রদল

নিজস্ব ও রাবি প্রতিবেদক:


দীর্ঘ ৩৫ বছর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। শিক্ষার্থীদের ভোটে গঠিত হতে যাচ্ছে সপ্তদশ রাকসু। বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এর আগে ১৬টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। আর জয়লাভের মধ্য দিয়ে ডাকসু ও জাকসুর গ্লানি ভুলে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। অন্যদিকে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাকসু নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য পুনর্গঠনেরও সুযোগ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারপাশেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের শক্ত ঘাঁটি। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে জিতে ক্যাম্পাসেও আধিপাত্য বিস্তার করতে চাইছে জামায়াতে ইসলামীর এই ছাত্র সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে থাকা জামায়াত-শিবিরের বলয়ের কারণে নির্বাচনে তাদের ভাল ফল হওয়ারও ইঙ্গিত মিলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি ছাত্রদল। ডাকসু নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা সাফল্য দেখাতে পারেননি। জাকসুতেও তাদের অবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তাই এবার রাকসু নির্বাচনে অতীতের গ্লানি মুছে নতুন করে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান পুনর্গঠনের সুযোগ নিতে চায় ছাত্রদল।

রাকসুতে ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী শেখ নুর উদ্দিন আবির বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে স্বৈরাচার পতন সব আন্দোলনেই আমরা ছিলাম অগ্রভাগে। শিক্ষার্থীরা জানেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেই না। শিক্ষার্থীরা আমাদের ভালোবাসেন। ডাকসু বা জাকসুর মতো এখানে হবে না। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।
রাকসুতে ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, আমরা জাতীয় ফুটবল টিমের সদস্য, ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীসহ পদ অনুযায়ী যোগ্যদের সমন্বয়ে ইনক্লুসিভ প্যানেল করার চেষ্টা করেছি। গণতন্ত্রের চর্চা ফিরিয়ে আনতে সংগ্রাম করা শিক্ষার্থীরা আমাদের প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন। আমরা আশাবাদী, শিক্ষার্থীরা মূল্যায়ন করবেন। আমরা নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।

শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের ভোটেই প্রতিষ্ঠিত হবে রাকসু। আমাদের লক্ষ্য কোনো সংঘাত নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ধরে রাখতে আমরা কাজ করব।’
জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, আমাদের প্যানেল মেধাবী, নীতিবান ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত। শিক্ষার্থীদের সমস্যা আমরা জানি, তাই নির্বাচিত হলে একাডেমিক জটিলতা ও আবাসন সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দেব।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬২ সালে রাকসুর যাত্রা শুরু। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও এটি ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রধান প্ল্যাটফর্ম। তবে ১৯৮৯ সালের পর থেকে এটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ওই সময় রাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে জয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। ওই নির্বাচনে ভিপিসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদে বিজয় লাভ করেছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাংগঠনিক সংকট ও প্রশাসনিক স্থবিরতায় থেমে যায় রাকসু কার্যক্রম। দীর্ঘ বিরতিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ, নীতি-আলোচনা ও সংগঠন চর্চা কমে যায় বলে মনে করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯টায় এবং চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার পর রাকসু নির্বাচন তাঁদের হাতে আবারও তুলে দিচ্ছে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ, যা হয়তো বদলে দিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির গতিপথ।

নির্ঝঞ্ঝাট ক্যাম্পাস, নিরাপত্তা জোরদার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের আগের দিন আজ বুধবার ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ আছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বহিরাগত প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
দুই হাজার পুলিশ সদস্য পালাবদল করে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকে বহিরাগত প্রবেশ রোধে সর্বোচ্চ নজরদারি করা হচ্ছে। এখন আমরা সুষ্ঠু ভোটের অপেক্ষায় আছি।’

এর আগে মঙ্গলবার রাত ১২টায় রাকসু, হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আজ সকালে সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর, কাজলাসহ বিভিন্ন ফটকে অবস্থান করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ক্রিকেট খেলছিলেন একদল শিক্ষার্থী। নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তাইফুজ্জুমান তপু বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যে আশঙ্কা ছিল, সেগুলো কেটে গিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসুক।’

একটি ভোটের জন্য বরাদ্দ ১৪ সেকেন্ড
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে একজন ভোটারকে মোট ২৩টি পদ, হল সংসদ নির্বাচনে ১৫টি পদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের পাঁচটি পদ মিলিয়ে মোট ৪৩টি ভোট দিতে হবে। এসব ভোট দিতে ভোটারের জন্য বরাদ্দ থাকবে ১০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিটি ভোট দিতে গড়ে প্রায় ১৪ সেকেন্ড করে সময় পাবেন একজন ভোটার।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়ানো ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া ভোটাররা নির্দিষ্ট ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদানের পাশাপাশি সঠিক রঙের ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলবেন।

নয়টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রের ৯৯০ বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটিতে থাকবে ছয় রঙের ব্যালট বাক্স। ছয়টি আলাদা ব্যালটে ভোট দিতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে ভোট গণনা এবং কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এবারের রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২৪৭ জন প্রার্থী।

রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। একজন ভোটার ৪৩টি ভোট দেবেন, সময় লাগবে ১০ মিনিট। প্রতিটি ভোটে সময় পাবেন প্রায় ১৪ সেকেন্ড। এছাড়া নিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রক্টরিয়াল বডির পাশাপাশি ১২টি বিজিবি টিম, ২৪টি র‌্যাব টিম এবং প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি আরো জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ১০০টি সিসি ক্যামেরা। সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও গোছানো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। পুনর্বিন্যাস্ত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচনে প্রস্তুত বুথ
নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বুথ। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত থেকেই শুরু হয়েছে বুথ প্রস্তুতের কাজ। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বুথ স্থাপন।
মমতাজউদ্দিন একাডেমিক ভবন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ কলাভবন, সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবন, জাবির ইবনে হাইয়ান একাডেমিক ভবন, জামাল নজরুল একাডেমিক ভবন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবন, জগদীশচন্দ্র একাডেমিক ভবনের দুটি করে কেন্দ্রে এবং জুবেরী ভবনের একটি কেন্দ্রসহ মোট ১৭টি কেন্দ্রের ৯৯০টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজউদ্দিন একাডেমিক ভবনে সমাজকর্ম বিভাগের ১৫৬ নম্বর কক্ষে ভোট দেবেন মন্নুজান হলের ভোটাররা, ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাডেমিক ভবনে ভোট দেবেন দুইটি হলের ভোটাররা। এদের মধ্যে ভবনের উত্তর গেট দিয়ে প্রবেশ করে ১২৮ নম্বর কক্ষে জুলাই-৩৬ হল এবং দক্ষিণ-পূর্ব গেট ব্যবহার করে ১২২ নম্বর কক্ষে ভোট দেবেন রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা।
রবীন্দ্র ভবনে ভোট দেবেন তিনটি হলের ভোটাররা। পূর্ব-মধ্য গেট দিয়ে প্রবেশ করে ভবনের ১৪৬ নম্বর কক্ষে তাপসী রাবেয়া হল, পূর্ব-দক্ষিণ ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ভবনের ১১৯ নম্বর কক্ষে বেগম খালেদা জিয়া হল এবং দক্ষিণ পশ্চিম ফটক ব্যবহার করে ভবনের ১২৩ নম্বর কক্ষে রহমতুন্নেসা হলের শিক্ষার্থীরা ভোট প্রদান করবেন।
এদিকে জাবির ইবনে হাইয়ান বিজ্ঞান ভবনে ভোট দেবেন দুটি হলের ভোটাররা। ভবনের ১৩৩ নম্বর কক্ষে শহীদ হবিবুর রহমান হল এবং ১০১ নম্বর কক্ষে শহীদ শামসুজ্জোহা হল। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ কলা ভবনে বাংলা বিভাগের ১৫০ নম্বর গ্যালারি কক্ষে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা।

জামাল নজরুল ইসলাম বিজ্ঞান ভবনের সিএসএলের ১২৫ নম্বর কক্ষে বিজয়-২৪ হল এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ফটক ব্যবহার করে ১১৬ নম্বর কক্ষে নবাব আব্দুল লতিফ হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দেবেন।
সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমিক ভবনের ১৩৩ নম্বর কক্ষে শের-ই বাংলা ফজলুল হক হল এবং ২০৮ নম্বর কক্ষে মতিহার হল, জগদীশ চন্দ্র একাডেমিক ভবনের টিচার্স লাউঞ্জে মাদার বখশ হল এবং ১০৫ নম্বর কক্ষে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ভোটাররা ভোট দেবেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের পূর্ব হল রুমে সৈয়দ আমীর আলী হল এবং পশ্চিম হল রুমে শাহ মখদুম হলের ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে ‘থ্রি ডাইমেনশনাল সিকিউরিটি’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট-এ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে ভোটারদের তিন স্তরের নজরদারিতে রাখা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ।
অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, প্রথমে ভোটার যে শিক্ষার্থী আইডি কার্ড নিয়ে আসবে, সেটির সত্যতা যাচাই করা হবে। এরপর ভোটারের ইউনিক আইডি ও ছবি যুক্ত ভোটার কার্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ছবির সঙ্গে ভোটারের মিল নিশ্চিত করার পরও সন্দেহ হলে কার্ডে থাকা গোপনীয় কিউআর কোড স্ক্যান করে চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে।’ তিনি এ প্রক্রিয়াকে থ্রি ডাইমেনশননাল সিকিউরিটি বা থ্রিডি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ব্যালট পেপার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটার সংখ্যার বাইরে অতিরিক্ত একটি ব্যালট পেপারও ছাপানো হয়নি। ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটারের জন্য ২৮ হাজার ৯০১টি ব্যালট পেপারই ছাপানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগে প্রশ্নপত্র তৈরি হয়, সেখান থেকেই ব্যালট পেপার তৈরি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আটটি ধাপ পেরিয়ে ব্যালট পেপারগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।’
এর আগে লিখিত বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম জানান, এবারের নির্বাচনে ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা। ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন মোট ২১২ জন শিক্ষক—এর মধ্যে ১৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার, বাকিরা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৯১ জন কর্মকর্তা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই হাজার পুলিশ সদস্য, ছয় প্লাটুন বিজিবি ও বারো প্লাটুন র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে।’

গুজব প্রতিরোধে সাইবার ক্রাইম ইউনিট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট-এ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন মাঠে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
পুলিশ কমিশনার ্য বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের অভিজ্ঞতা থাকলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির। এই নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। মূল দায়িত্বে থাকবে প্রশাসন ও বিএনসিসি; পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে। মাঠ পর্যায়ে র‌্যাব ও বিজিবিও দায়িত্ব পালন করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু এই নির্বাচন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে, তাই দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ ধৈর্য, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। সকলের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করতে হবে।’
পুলিশ কমিশনার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশদ্বারে তল্লাশির দায়িত্বে থাকবে বিএনসিসি সদস্যরা, তবে তাদের সহযোগিতা করবে পুলিশ। তল্লাশির সময় সবাইকে সম্মানজনক আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনী উপকরণ যথাযথভাবে গণনাস্থলে পৌঁছে দিতে হবে এবং ভোট গণনা ও পরবর্তী সময় সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন–২০২৫ উপলক্ষে আরএমপি ও অন্যান্য ইউনিটের প্রায় তেইশশ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তবে সাইবার স্পেসে গুজব রোধে আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম যৌথভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মনিটর করছে।’

উল্লেখ, এবার রাকসুতে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন। এছাড়া বাকি ২০টি পদে ২০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রার্থী এবং হল সংসদ নির্বাচনের ১৫টি পদের বিপরীতে ১৭টি হলে মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন।