বিয়ের উপহারের গাছ দিয়ে গড়ে উঠল এক টুকরো ‘সুন্দরবন’

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে পদ্মার চরে রোপিত হয়েছে সুন্দরবনের ১ হাজার ৫০০ টি চারা গাছ। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদের কন্যা তথাপি আজাদের বিয়ের বিশেষ উপহার হিসেবে এই গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। দেড় হাজারেরও বেশি চারা নিয়ে গড়ে উঠেছে এক ক্ষুদ্র ‘সুন্দরবন’, যা শুধুই পরিবেশ সংরক্ষণ নয়, বিয়ের স্মৃতিকেও চিরস্মরণীয় করে তুলেছে।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে কাঁকড়া, সুন্দরী, পশুর, খালিশা ও বাইন প্রজাতির চারা অন্তর্ভুক্ত ছিল। চারা উপহার দিয়েছেন রাজশাহীর ‘মৌমাছি ও মধু পাঠশালা’র প্রতিষ্ঠাতা আকমাল মাহমুদ, চট্টগ্রামের মধু গবেষক সৈয়দ মঈনুল আনোয়ার এবং ‘চাঁপাই আমবাগান’-এর উদ্যোক্তা প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন।
সৈয়দ মঈনুল আনোয়ার বলেন,“আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ আমার প্রিয় বন্ধু। তার মেয়ের বিয়েতে সবাই উপহার দেবে, কিন্তু ক্ষয় হয়ে যাবে। তাই এমন একটি উপহার দিয়েছি, যা যুগ যুগ ধরে থাকবে।” মঈনুল আনোয়ার সুন্দরবনের বীজ সংগ্রহ করে কৃত্রিমভাবে চারা তৈরি করেছেন।
গাছের চারা কুরিয়ারের মাধ্যমে আক্রমাল মাহমুদের ঠিকানায় পাঠানো হয়। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পদ্মার চরে রোপণ করা হয়। চারা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আকমাল মাহমুদ তথাপি আজাদের হাতে চারা হস্তান্তর করেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন এবং উপস্থিত অতিথিরা চারা রোপণ করেন।
রোপিত চারা গাছের মধ্যে রয়েছে ২০০টি সুন্দরী, ২০০টি কাঁকড়া, ১০০টি পশুর, ১,০০০টি খালিশা এবং ২০টি বাইন। তথাপি আজাদ বলেন, “বিয়েতে অনেক উপহার পেয়েছি, কিন্তু এই গাছের মতো উপহার অনন্য। এগুলো বড় হয়ে উঠলে বলব-এগুলো আমার জীবনের বিয়ের স্মৃতি।”
তাঁর স্বামী হাসিবুল আলম কাজল বলেন,“গাছ আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য। তথাপি আজাদের বিয়েতে এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন,“রাজশাহীকে গ্রীন সিটি হিসেবে ধরে রাখতে বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছি।”
এভাবে পদ্মার চরে রোপিত চারা গাছের মাধ্যমে রাজশাহীতে তৈরি হলো এক ক্ষুদ্র সুন্দরবন, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।