সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

বিএমডিএ কর্মকর্তাদের বদলির ভয় দেখিয়ে হাতানো হচ্ছে টাকা

WP Import ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৩ অপরাহ্ন
WP Import ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৩ অপরাহ্ন
বিএমডিএ কর্মকর্তাদের বদলির ভয় দেখিয়ে হাতানো হচ্ছে টাকা
বিএমডিএ কর্মকর্তাদের বদলির ভয় দেখিয়ে হাতানো হচ্ছে টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কর্মকর্তাদের দূরে কোথাও বদলির ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। কর্মকর্তাদের ফোন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরাসরি দেখা করেও টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিএমডিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি প্রতারক চক্রের কাজ।
চক্রটি ফোন করে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক তরিকুল আলম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম ও সচিব নীলুফা সরকারকে ‘সম্মানী’ দেওয়ার নামে টাকা চাচ্ছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম ও শামসুল হোদার পরিচয় দিয়ে ফোন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কাউকে টাকা না দেওয়ার জন্য বিএমডিএ একটি চিঠি ইস্যু করেছে।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিএমডিএ’র চারটি সার্কেল, ১৬টি রিজিয়ন ও ১২৫টি জোন কার্যালয় আছে। গ্রামের বাড়ি কাছাকাছি কিংবা পার্শ্ববর্তী জেলায়, এমন কার্যালয়েই থাকেন বেশিরভাগ কর্মকর্তা। এখন রাজশাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের রংপুর অঞ্চলে ও রংপুরের কর্মকর্তাদের রাজশাহী অঞ্চলে বদলির ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল জোন কার্যালয়ে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে ফোন করা হয়। হাবিবুর রহমানের বাড়িও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তাকে রংপুর রিজিয়নের লালমনিরহাটে বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। বদলি ঠেকাতে তার কাছে টাকা চাওয়া হয়।

হাবিবুর রহমানের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথনের ফোনকল রেকর্ড পাওয়া গেছে। এতে শোনা যায়, এক ব্যক্তি নিজেকে পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুল হোদা পরিচয়ে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি জানান, বিএমডিএর বোর্ড সভায় বদলির জন্য কর্মকর্তাদের একটি তালিকা হয়েছে। সে অনুযায়ী চিঠি ইস্যু হচ্ছে। হাবিবুর রহমান যাতে মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারেন, সেজন্য তিনি ফোন করেছেন।

হাবিবুর এ সময় নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে লালমনিরহাটে না দিয়ে পার্শ্ববর্তী নওগাঁয় বদলির অনুরোধ জানান। এ সময় ওই ব্যক্তি নির্বাহী পরিচালক তরিকুল আলম ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেমকে সম্মানী দেওয়ার কথা জানান। ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে তিনি জানান। এ সময় হাবিবুর বলেন, ‘১০-১২ হাজারের মধ্যে হলে সুবিধা হয় স্যার।’ পরে আপাতত ২০ হাজার টাকা পাঠানোর নির্দেশনা দেন ওই ব্যক্তি।

যোগাযোগ করা হলে উপসহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, এমন ফোনকলের পর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। তারা কাউকে টাকা পাঠাতে নিষেধ করেন। তাই তিনি টাকা পাঠাননি। এটি প্রতারক চক্রের কাজ বলে তিনি মনে করছেন। তবে এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেননি বলেও জানান হাবিবুর রহমান।
বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মরত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের কাছেও এভাবে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়েছে। যিনি ফোন করেছিলেন, তিনি নিজেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম পরিচয় দিয়েছিলেন। এমন ফোনকল পেয়ে কেউ কেউ টাকাও দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার বাড়ি নীলফামারী, এ অঞ্চলেই কর্মরত আছি। আমাকে ফোন করে বলা হয় নওগাঁয় বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি সেখানে যেতে চাই না। তাই বদলি বাতিলের জন্য টাকা চাওয়া হলে আমি ২০ হাজার টাকা দিয়ে ফেলেছি। এখন মনে হচ্ছে প্রতারক চক্রের কাছে প্রতারিত হয়েছি।

তবে অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেককেই দূরে বদলির কথা বলে বিএমডিএর সদর দফতরে টাকার লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতদের দূরে না পাঠিয়ে কাছাকাছি জেলায় রাখার জন্য একটি চক্র নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। যদিও বিএমডিএ তা অস্বীকার করছে।

এখন মোবাইল ফোনে টাকা চাওয়ার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে গত মঙ্গলবার একটি চিঠি ইস্যু করেছে কর্তৃপক্ষ। সচিব নীলুফা সরকার স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়েছে- ‘প্রধান কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বদলি, বদলি বাতিল ও পদোন্নতির কথা বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। কেউ যেন এভাবে টাকা না দেন। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে থানায় অভিযোগ করে বিষয়টি নির্বাহী পরিচালককে অবহিত করতেও বলা হয়।’

বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুল হোদা বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে প্রতারক চক্র ফোন করে টাকা চাচ্ছে। আমি তো এ ধরনের কথা বলার কথা না। এটা প্রতারক চক্রের কাজ।
নির্বাহী পরিচালক তরিকুল আলম বলেন, বদলি, পদোন্নতি ও বদলি বাতিলে কারও কিছু করার নেই। এটা আমার এবং সচিবের কাজ। তাই এসব কাজের জন্য কারও টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। এটা প্রতারকদের কাজ। সবাইকে সতর্ক করে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।