সাভার থেকে ধর্ষণ মামলার আসামী শাকিলকে গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
র্যাব-৫ সিপিসি-৩ এবং র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর যৌথ আভিযানিক দল মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ২ টার দিকে ঢাকার সাভার থানার ইমান্দিপুর এলাকা থেকে ধর্ষণ মামলার আসামি শাকিল আহমেদ ওরফে মিম (২৫)কে গ্রেফতার করেছে। ধৃত আসামী গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর থানার কান্তনগরের সাজু সরকারের ছেলে। খবর বিজ্ঞপ্তির।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, নারী ভিকটিম গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার জুগীপাড়া এলাকায় তার নানার বাড়িতে অবস্থান করে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ভিকটিম গত রমজান মাসের কোন একদিন তার নানার বাড়িতে টিউবওয়েরলের পাড়ে গোলস করার সময় ১নং আসামি রায়হান গোপনে তার মোবাইল ফোনে ভিকটিমের নগ্ন ভিডিও ধারণ করে।
পরবর্তীতে আসামি রায়হান ওই অশ্লীল ভিডিও ভিকটিমকে দেখায় এবং ভিকটিমের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার কুপ্রস্তাব দেয়। অন্যথায় উক্ত অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয়ভীতি ও হুমকি দেখায়। অতঃপর ভিকটিম উক্ত অশ্লীল ভিডিও ফোন থেকে ডিলিট করে দেয়ার শর্তে ১নং আসামি রায়হানের সাথে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
১নং আসামি রায়হান শারীরিক সম্পর্কের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে ২নং আসামি শাকিল ওরফে মিম এর মোবাইল ফোনে সরবরাহ করে। এমতাবস্থায় গত ২৪ জুন ২০২৫ বিকাল অনুমান ৫ টার দিকে ভিকটিম স্কুল থেকে বাড়িতে আসার সময় ২নং আসামি শাকিল তার মোবাইলে সরবরাকৃত অশ্লীল ভিডিও ও স্থিরচিত্র ভিকটিমকে দেখায় এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয়।
একপর্যায়ে ২নং আসামি ভিকটিমকে উক্ত অশ্লীল ভিডিও ও স্থিরচিত্র মোবাইল থেকে ডিলিট করে দেয়ার কথা বলে একই তারিখ বিকাল অনুমান সাড়ে ৫ টায় সাদুল্লাপুর থানার কান্তনগর বাজারের পার্শ্বে কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন ২নং আসামির আধাপাকা দোকান ঘরে ডেকে নিয়ে ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখাইয়া জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ সময় একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দোকান ঘরের সামনে এসে ২নং আসামি শাকিল আহমেদ মিম কে ডাকাডাকি করলে শাকিল ভিকটিমকে ছেড়ে দেয় এবং ভিকটিম কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে তার নানার বাড়িতে চলে আসে এবং কান্নাকাটি করতে থাকে। ভিকটিমের নানি ভিকটিমকে কান্নাকাটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উপরোক্ত ঘটনা প্রকাশ করে।
এ সংক্রান্তে ভিকটিমের মা লাইজু বেগম ভিকটিমের কাছ থেকে এবং অন্যান্য মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জেনে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানায় উল্লেখিত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে সাদুল্লাপুর থানার মামলা নং-২৪ তারিখ-২৭/০৬/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধনী) আইন ২০২০ এর ৯(১) তৎসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) রুজু হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।