সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

চারঘাটে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর মাঝে অসন্তোষ

WP Import ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৪৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


রাজশাহীর চারঘাটে কলেজ কমিটি গঠনে অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও জালিয়াতির কারণে থমকে আছে কলেজটির নিয়মিত কমিটি গঠন। এতে করে শিক্ষক/কর্মচারীসহ এলাকাবাসীর মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিষয়টি গত এক মাস আগে ধরা পড়লেও কলেজটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়সারা বক্তব্য বিষয়টি দেখছি। উপজেলার বালুদিয়াড় টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে এমন সেচ্ছাচারিতা ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের বালূদিয়াড় টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল এ্যাডহক কমিটি দিয়ে। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হবার ১ মাস আগেই নিয়মিত কমিটি গঠনের বিধান থাকায় কলেজটির অধ্যক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়মিত কমিটি গঠনের আবেদন করেন। তার আবেদনের পেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস নিয়মিত কমিটির গঠনের লক্ষে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান দায়িত্ব দেন।

প্রিজাইডিং অফিসার ও সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান বলেন নিয়মিত কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচনের জন্য গত ১৮ আগষ্ট তফসিল অনুযায়ী ফরম বিতরন শুরু করেন। এরপর ৫ জন অভিভাবক সদস্য ও ১ জন দাতা সদস্য ফরম উত্তোলন করেন। ২৫ আগষ্ট যাচাই বাছাই শেষে প্রতিদন্দী সদস্য না থাকায় ফরম উত্তোলনকারী ৬ জন কে চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে, নির্বাচিতদের চুড়ান্ত তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষের কাছে জমা দিই। ফ্লুইট দিয়ে নির্বাচিত একজনের নাম মুছে দেয়া একটি বড় ধরনের জালিয়াতি বলে তিনি জানান।

অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম চরম সেচ্ছাচারিতা ও জালিয়াতি করে প্রিজাইডিং অফিসার এর প্রদানকৃত চুড়ান্ত তালিকায় থাকা মাহফুজা বেগমের নাম ফ্রুট কালি দিয়ে মুছে সেখানে অধ্যক্ষের পছন্দের লোক হিসেবে পরিচিত জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জমা দেন। প্রিডাইজিং অফিসারের দেয়া তালিকা ও অধ্যক্ষের দেয়া তালিকা ক্রসচেক করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চোখে অমিল ধরা পড়লে আটকে দেন কমিটির গঠনের প্রক্রিয়া। থমকে যায় কলেজটি নিয়মিত কমিটি গঠন। আর এঘটনা জানাজানি হলে কলেজের শিক্ষক/ কর্মচারী ও এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দেয় চরম অসন্তোষ। বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম বলেন, আমি যেটি করেছি শুধু রাজনৈতিক চাপে পড়ে করেছি। ইউএনও স্যারের কাছে স্বীকারও করেছি।

নাম প্রকাশে একাধিক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ নুরুল হক ফ্্রুট কালি দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের প্রস্তুতকৃত দাতা সদস্যের নাম মুছে দেয়া এটি সম্পুর্ন রুপে বেআইনী এবং দন্ডনীয় অপরাধ। অধ্যক্ষ নুরুল হক ইতিপুর্বে ৩বার তাকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ সেচ্ছাচারিতা এবং জালিয়াতির কারনে বরখাস্ত করা হয়েছিল। বার বার ক্ষমা পাওয়ার পরে তিনি পুনরায় এমন সেচ্ছাচারিতা ও জালিয়াতি করেই যাচ্ছেন। মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি বরখাস্ত থেকে রক্ষা পেয়ে কলেজে যোগদান করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়সারা বক্তব্য দেখছি বলেই ফোন কেটে দেন।