সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

সিঁদুর খেলে অশ্রুভেজা ভালোবাসায় দেবীকে বিদায়

WP Import ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০২ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৪ অপরাহ্ন
সিঁদুর খেলে অশ্রুভেজা ভালোবাসায় দেবীকে বিদায়
সিঁদুর খেলে অশ্রুভেজা ভালোবাসায় দেবীকে বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:


শঙ্খনাদ-উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকের বাদ্য আর আরাধনা এবং সধবাদের সিঁদুর খেলায় দেবীদুর্গাকে অশ্রুভেজা ভালোবাসায় বিদায় জানিয়েছে মর্ত্যে থাকা তার ভক্তরা। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে দশমীর বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জন হয়। দুপুরে শুরু হয় সধবাদের সিঁদুর খেলা। এ সময় আনন্দ-উল্লাসে মাতেন দেবীর ভক্তরা। গানে গানে ‘বলো দুগ্গা মাই কি জয়’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় মন্দির প্রাঙ্গণ। দলবেঁধে নাচতে দেখা যায় মেয়েদের।

আনন্দ উৎসবের এই মুহূর্ত শেষ হবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। ফের দেবীকে মর্ত্যের পৃথিবীতে আমন্ত্রণ জানাতে অপেক্ষা করতে হবে এক বছর। বিসর্জনের আগে মণ্ডপে মণ্ডপে সনাতন ধর্মের হিন্দু নারীরা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। সে সময় নাচে গানে আনন্দময়ীর বন্দনায় মাতিয়ে তোলেন তারা।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পিতৃগৃহ থেকে পুত্র-কন্যা নিয়ে দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাসে তার স্বামীর ঘরে। একবছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন এ ধরণীতে। তাই টানা পাঁচদিনের আনন্দ উৎসবের শেষ দিনে দেবীর এই বিদায়বেলায় ভক্তরা আপ্লুত হন বিষাদে।

পুরোহিত বিধান চক্রবর্তী বলেন, পূজার রীতি অনুযায়ী বিজয়া দশমীর দিনে নারীরা সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে আনন্দ করেন এবং মায়ের কাছ থেকে স্বামীর জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সংসারের জন্য মঙ্গল কামনা করে থাকেন।

দশমীতে দেবী প্রতিমার হাতে জরা, পান, শাপলা ডালা দিয়ে আরাধনা করা হয়। সকাল ১১টার দিকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে অঞ্জলি দেন পূজারী ও ভক্তরা।
এরপর থেকেই সিঁদুর খেলায় মাতেন ভক্তরা। সধবা নারীর সিঁদুর খেলার আচারে মুখরিত হয়ে ওঠে ম-প। স্বামীরা তাদের স্ত্রীর কপালে সিঁদুর মেখে দেন। নারীরা স্বামী এবং সংসারের কল্যাণের জন্য দুর্গা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন।

সদ্য বিয়ে করা তিথি দাস বলেন, দুই মাস আগেই আমার বিয়ে হয়েছে। স্বামীর সঙ্গে এবারই প্রথম পূজা করছি। দেবীর কাছে স্বামীর জন্য মঙ্গল কামনা করেছি। আমার পরিবারসহ সবার জন্য মঙ্গল কামনা করেছি।
স্ত্রীকে নিয়ে মণ্ডপে এসেছেন অসিত পাল। তিনি বলেন, দশমীতে মা আমাদের ছেড়ে কৈলাশে ফিরে যান, ফলে দিনটি আমাদের জন্য বেদনার। আবার দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন। এজন্য আজ শুভ বিজয়া। দিনটিতে ভক্তরা আনন্দ করি।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন কন্যারূপে ধরায় আসেন দশভূজা দেবী দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।
রাজশাহীতে এবছর মোট মোট ৪৬২টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে ৮০টি এবং জেলায় ৩৮২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীর ফুদকিপাড়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। যা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। এই বিসর্জনে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা রাখা হয়েছিল।