সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

বিশ বছরের পরিশ্রমের ফসল মুহূর্তেই শেষ, আগুনে ভস্মীভূত বাবুর স্বপ্নের দোকান

WP Import ০২ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৩৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০২ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৩৭ অপরাহ্ন
বিশ বছরের পরিশ্রমের ফসল মুহূর্তেই শেষ, আগুনে ভস্মীভূত বাবুর স্বপ্নের দোকান
বিশ বছরের পরিশ্রমের ফসল মুহূর্তেই শেষ, আগুনে ভস্মীভূত বাবুর স্বপ্নের দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ বাবুর (৪৫) স্বপ্নের দোকান। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বিদিরপুরহাট বাজারে।

সেদিন সকালে বাড়িতেই ছিলেন বাবু। হঠাৎ আতঙ্কিত এক ফোনকল পানÍ‘দোকানে আগুন!’ ছুটে গিয়ে তিনি দেখেন, দোকানের ভেতর থেকে লেলিহান আগুন আর কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগেই দোকানের বড় অংশের মালামাল ভস্মীভূত হয়ে যায়।

প্রথমে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে দোকানের বড় ক্ষতি হয়ে যায়। বাবুর দাবি, দোকানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল, এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকার জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।

ব্যবসায়ী বাবুর পরিবার জানায়, প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা ওয়ালিউল ইসলাম সেন্টু বিদিরপুরহাটে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বাবার হাত ধরে বাবু ব্যবসায় নামেন। পরে ২০০৫ সালে তিনি নিজেই শুরু করেন আলাদা দোকান। শিশুখেলনা ও কসমেটিকস দিয়ে শুরু করা তার ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় হয়। বর্তমানে দোকানে কসমেটিকস, খেলনা, জুতা, স্যান্ডেল, শাড়ি-কাপড়সহ নানা ধরনের মালামাল থাকত।
দোকান পুড়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাবু। তিনি বলেন, ‘গত বিশ বছর ধরে আমি তিলে তিলে দোকানটা গড়ে তুলেছিলাম। একেবারে শূন্য হাতে শুরু করেছিলাম। একটা দুর্ঘটনায় সবকিছু শেষ হয়ে গেল। কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াব বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মহাব্বত আলী মিন্টু বলেন, ‘বিদিরপুর বাজারে বাবুর দোকানটাই ছিল সবচেয়ে বড়। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে দোকানটি পুড়ে যাওয়ায় শুধু বাবুই নয়, বাজারের ব্যবসায়ী সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হলো।’
এখনও দোকান খুলতে পারেননি বাবু। আগুন লাগার পর থেকে তার দোকান বন্ধ রয়েছে প্রায় ১৫ দিন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত আর্থিক সহায়তা না পেলে বাবুর পক্ষে আবার ব্যবসা দাঁড় করানো কঠিন হবে।