রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

বিদায়ের সুর, দোলায় চড়ে কৈলাশে ফিরবেন দেবী দুর্গা

WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৭ অপরাহ্ন
WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৭ অপরাহ্ন
বিদায়ের সুর, দোলায় চড়ে কৈলাশে ফিরবেন দেবী দুর্গা
বিদায়ের সুর, দোলায় চড়ে কৈলাশে ফিরবেন দেবী দুর্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মহানবমীতে দেবীর দুর্গার বিদায় ঘণ্টা শুরু হয়ে গেছে। দশমীতে কৈলাশে (স্বামীর বাড়ি) ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা। এদিন বিশেষ কোনও পর্ব না থাকলেও সকালে তর্পণে দুর্গার মহাস্নান হবে, ষোড়শ উপচারে পূজা করা হবে। নবমীর সন্ধ্যায় দেবীদুর্গার ‘মহাআরতি’ করা হয়। মহানবমীতে বলিদান ও নবমী হোমের রীতি রয়েছে। এদিন ১০৮টি নীলপদ্মে পূজা হবে দেবীদুর্গার। পূজা শেষে অঞ্জলি নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

বুধবার (১ অক্টোবর) নবমী তিথি শুরুই হয় সন্ধিপূজা দিয়ে। সন্ধিপূজা হয় অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর সূচনার প্রথম ২৪ মিনিটজুড়ে। মূলত দেবী চামুন্ডার পূজা হয় এই সময়ে। ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদন করা হয় দেবীর চরণে। আর ঠিক এই কারণে পূজার মন্ত্রেও সেই বিশেষত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।
মহানবরাত্রিতে দেবীদুর্গার আরাধনার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যদিও সারা বছর ধরে যে উৎসবের জন্য অপেক্ষা করা হয়, তার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় এই নবমী নিশি। তাই নবমী নিশিকে সবাই ধরে রাখতে আকুতি জানায়। বাজতে থাকে একটাই সুর ‘ওরে নবমী-নিশি, না হইও রে অবসান’।

পুরোহিতদের মতে, মহানবমীতে ভক্তদের দেওয়া ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজা হবে দেবীদুর্গার। এছাড়া আজ নীলকণ্ঠ, নীল অপরাজিতা ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে মহানবমীর বিহিতপূজা হবে।
মহানবমীর দিনে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবীদুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হবে। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীদুর্গাকে বিদায় জানাবেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

মহানবমীতে ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে ভক্তদের হৃদয়। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রাণের উৎসবে ভক্তদের মাঝে বয়ে ওঠে বিষাদের সুর। কারণ দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে হবে শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপনী। এদিন প্রার্থনার সময় ভক্তকুল অশ্রুসিক্ত হয়ে দেবী দুর্গার কাছে কান্না করতে থাকেন।
মহানবমী সম্পর্কে অনিরুদ্ধ রায় বলেন, নবমীর বিশেষত্ব হচ্ছে ১০৮ পদ্মের পূজা। বলা চলে এটাই শেষ পূজা, কারণ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিসর্জন। আবার বছর পেরিয়ে দেবী আসবে আমাদের মাঝে। তাই দেবী দুর্গার বিদায়ের কথা ভেবেই সবার মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদ লাভ হয়। তাই শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে দশভুজা দেবীর পূজা হয়েছে। নীল অপরাজিতা ফুল মহানবমী পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হয়। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ ও ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ করা হয়।
নগরীর ঘোড়ামারা বাসিন্দা সাগর রায় বলেন, পূজার প্রথম তিনদিন সবার মাঝে অনেক আনন্দ উচ্ছ্বাস থাকলেও চতুর্থ দিনের সন্ধিপূজার পর সবার মন বিষাদে ভরে যায়। কারণ তখন সবার জানা হয়ে যায় দেবী দুর্গা আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে ৫ দিনের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের। তাই, মণ্ডপে মণ্ডপে এখন বাজছে বিদায়ের ঘণ্টা। এদিন সকালে হবে দশমীর বিহিত পূজা। পূজা শেষে হবে দর্পণ ও বিসর্জন। এদিন দেবী মর্ত্যে ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন দোলায় চড়ে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

রাজশাহীতে এবছর মোট মোট ৪৬২টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে ৮০টি এবং জেলায় ৩৮২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিজয়া দশমীতে সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর থেকে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজশাহী মহানগরীর প্রায় সব মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হবে পদ্মা নদীতে।