একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, মারা গেল দুইজন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্য দিয়েছেন রেশমা বেগম নামের এক নারী। এর মধ্যে দুটি সন্তান মারা গেছে। বাকি তিন সন্তানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি এই সন্তানগুলো প্রসব করেন। রেশমা বেগম (২২) নাটোরের লালপুর উপজেলার সাঁইপাড়া গ্রামের দিনমজুর আসিফ হোসেন সবুজের স্ত্রী তিনি। প্রসবের পর রেশমা বেগমও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বুধবার (১ অক্টোবর) উপজেলার সাঁইপাড়া গ্রামে দুই সন্তানের জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। আসিফ হোসেন সবুজ পাবনা জেলার ঈশ্বরদী মিলিটারি ফার্মে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রেশমা বেগম গর্ভবতী হওয়ার তিন মাস পর লালপুরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে। সেখানেই প্রথম তার গর্ভে পাঁচ সন্তানের কথা জানতে পারে। পরে তারা বেশ কয়েকবার রাজশাহীতে এসে ডাক্তারের পরামর্শ নেন।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রেশমা বেগমের প্রসব ব্যথা দেখা দিলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। এর মধ্যে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ছিল। জন্মের অল্প কিছুক্ষণ পরই এক ছেলে ও এক মেয়ে মারা যায়। বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে আছে।
আসিফ হোসেন সবুজ বলেন, বর্তমানে জীবিত ৩ সন্তানের প্রত্যেকেরই ওজন কম। তারা সবাই এখন হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। দুইজনের ওজন ১২শ গ্রাম করে, অপরজনের ওজন ৮শ গ্রাম। ওজন কম থাকায় জীবিত সন্তানদের নিয়েও ডাক্তাররা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। প্রসবের পর তাদের মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
তিনি জানান, তার স্বল্প আয়ে তিন সন্তানের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ লালন-পালন তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তিনি বিত্তবানদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাসের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তাই এবিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।